বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোথায় অক্টোবরের ২৮ তারিখ? সময় ঠিক এরকম। কোথায় ছিলেন এতদিন? কোথায় ছিলেন গয়েশ্বর বাবু?
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ‘শান্তি ও গণতন্ত্র’ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি আজ (শনিবার) পল্টনে হাজির হয়েছেন। বলেছিলেন অলিগলি খুঁজে পাবো না, আমরা পালিয়ে যাবো। কে পালিয়েছে? ডিবি অফিসে কোরাল মাছ খেয়ে পালিয়েছিল কারা? গয়েশ্বর বাবু অলিগলি খুঁজে পাননি। দোকানের ভেতরে ঢুকে, দোকানদার বলে আপনি কে? বলে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা তাড়া করেছে। দোকানদার বলে আমিও আওয়ামী লীগ। যাবে কোথায়?
দেখতে দেখতে ১৫ বছর গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে আরও পাঁচ বছর। মানুষ বাঁচে কয় বছর! কবে হবে আন্দোলন? এই বছর না ওই বছর? রোজার পর না কোরবানের পর? কবে হবে আন্দোলন? কোন বছর?
বিএনপি আবার মাঠে নেমেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভুয়া তো তারা চিরজীবন। আন্দোলন করে ভুয়া হয়ে গেছে। এই আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেয় না। অবরোধ ডাকে কেউ শুনে না, হরতাল ডাকে রাস্তায় যানজট। বিএনপির আন্দোলন-অবরোধ-হরতাল, এক দফা ভুয়া। বিএনপি মানেই হচ্ছে ভুয়া।
বিএনপিকে উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশিদের ভয় দেখান? ৪১.৮ শতাংশ লোকের ভোটারের ভোটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার জনগণের সরকার, নির্বাচিত সরকার। যেখানে ২৮ দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। চীন বা রাশিয়া আমাদের বন্ধু হতে পারে। আমাদের সরকার কোনও বিদেশি শক্তি বসায়নি। বাংলাদেশের জনগণের ভোটে শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে।
বিএনপির কালো পতাকা মিছিল নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মাঠে নেমেছেন। কালো পতাকা মিছিল। কালো পতাকা মানে হচ্ছে শোক মিছিল। এ আরেক ভুয়া। আন্দোলনের নামে ভুয়া। ৩০ তারিখে (জানুয়ারি) আবার ডাকছে। সেটাও ভুয়া। লোকজন নেই, জনগণ নেই, নেতাকর্মীরা হতাশ। তাদের লন্ডনের তারেক জিয়ার প্রতি কোনও আস্থা নেই। নেতাকর্মীরা এখন আর তারেকের ফরমায়েশে কান দেয় না। বাংলাদেশের জনগণ তো নেই।
খেলা একটা হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের খেলা শেষ পাঁচ বছরের জন্য। এখন খেলা হবে রাজনীতির। এখন খেলা হবে দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, হরতাল, আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। ৩০ তারিখ আবার কালো পতাকা মিছিল। সে দিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মহানগর, জেলা, সকল উপজেলায় লাল-সবুজ পতাকা হাতে গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবেন। সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা পাহারায় থাকবেন। এই অপশক্তিকে আমরা আর বাড়তে দিতে পারি না। তাদের রুখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।









