৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বশেষ বিশাল অংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় দেশের আর্থিক খাতে ব্যাপক ধস নামবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের অর্থনীতিবিদরা। দেশের অর্থনীতিকে রাবিশে পরিণত করার জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর দায়ী। ৮০০ কোটি টাকা হ্যাকড হয়ে যাওয়ার পরও তারা এখনও দায়িত্ব পালন করছেন কোন নৈতিক অধিকারে। শুক্রবার বিকেলে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নিয়মিত বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ঘটনা সংবলিত আখ্যান জেনেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড থেকে রিজার্ভের এ পর্যন্ত সরকার কর্তৃক স্বীকারকৃত দশ কোটি দশ লাখ মার্কিন ডলার লোপাট বা চুরি হয়ে গেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ন্যাক্কারজনক জালিয়াতির ঘটনা এটি। এই টাকা চুরিতে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের প্রভাবশালী মহল ও সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকার করেছে।
বিএনপির এই নেতার দাবি, সরকারের লোক জড়িত ছাড়া এত বড় জালিয়াতির ঘটনা কোনওভাবেই সম্ভব নয় বলে দেশবাসী বিশ্বাস করে। আশ্চর্য হলেও সত্য যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা এখন উড়ছে ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে।
লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের দশ কোটি দশ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, হ্যাক করে এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের বিশাল অংকের অর্থ দেশের বাইরে থেকে অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হ্যাক করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বলছে, তাদের এখান থেকে হ্যাকিং হয়েছে এর কোনও প্রমাণ নেই। তারা এর দায় পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশের ওপরই চাপিয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সমস্ত ব্যাংক আজ ফোকলা হয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় দেশের সাধারণ মানুষ সহ ব্যবসায়ী সমাজ আজ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মানুষ এখন আর ব্যাংকে টাকা রাখতে সাহস পাচ্ছে না। দেশে আজ ’৭৪-এর অবস্থা রিরাজ করছে। সেসময় যেভাবে ব্যাংক লুট ও ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটত, তা এখনও অহরহ ঘটছে। বর্তমানে দেশের আর্থিক খাত ভেঙে পেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ ধ্বংস হতে আর সময় লাগবে না। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে অর্থ জালিয়াতির বিভিন্ন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক লুটপাটকারীকে চিহ্নিত করে বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ থেকে কার্গো বিমানে মালামাল পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য—এমন তথ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর ফলে দেশের গার্মেন্টস শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ৬০ শতাংশের বেশি পণ্য রফতানি হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী দেশ যুক্তরাজ্য। স্বাভাবিক কারণেই যুক্তরাজ্যে পণ্য পরিবহনের নিষেধাজ্ঞায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রফতানীকারক তথা ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে রফতানিতে অশনি সংকেত দেখা দেবে এবং অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে দেশের গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন রফতানি খাত।
/এসটিএস/এমএনএইচ/








