বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেছেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, দেশের স্বাধীনতাবিরোধী কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চারপাশে গেঁড়ে বসেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মাজার ভাঙার মতো ফৌজদারি অপরাধ করে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দফতর সম্পাদক মো. ইব্রাহিম মিয়ার সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএসপি চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী উল্লেখ করেন, মাজারে হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটিতে কোনও আলেম না থাকা পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে বিএসপি। অবিলম্বে ভাঙচুর ও লুটপাট করা সব মাজার শরীফ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের পুনঃনির্মাণ করে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, মাজারে আগেও হামলা হয়েছে। কিন্তু এবার যেভাবে একটার পর একটা মাজারে হামলা হয়েছে, সেভাবে হয়নি। এটি নজিরবিহীন। বাংলায় ইসলামের বিস্তারে এ দেশের ওলি-আউলিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের সমাধীই এ দেশের সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার ‘মাজার’। এই মাজার দেশের গণসংস্কৃতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, আল্লাহর ওলি-আউলিয়াদের মাজার শরীফগুলো বাংলার ভাবচর্চার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এসব মাজার জ্ঞানচর্চার জীবন্ত একটি প্রক্রিয়া।
এই প্রক্রিয়া কখনও মানুষের ওপর জুলুম করে না জানিয়ে সম্প্রতি দেশে মাজারে মাজারে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, পাশ্চাত্যে আধ্যাত্মিক জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে, যেটি আমাদের দেশে নেই। আমাদের দেশের মানুষের মনের তৃষ্ণা ও আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়ে গেছেন ওলি-আউলিয়া ও ফকিররা। প্রয়াণের পর তাদের মাজারগুলো মানুষের মনের তৃষ্ণা মেটানোর উত্তম ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কোনও বিজ্ঞ আলেমের উপস্থিতি না দেখে আমরা বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি। কারণ, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের অসঙ্গতি ও বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বিএসপিসহ ওলামায়ে কেরাম ব্যাপকভাবে সোচ্চার ছিলেন। অথচ আজ পাঠ্যপুস্তক সংশোধন কমিটি থেকে আলেম সমাজকে বঞ্চিত করে আবারও বিতর্কের জন্ম দেওয়া হলো।









