জামায়াত আমিরের বাসায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উপস্থাপন নিয়ে বিতর্ক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১২আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৪

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হয়েছে। সেখানে ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনাবলির ঠাঁই মিলেছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেছে জামায়াত ইসলামী।

জামায়াতের সেই ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ তুলে ধরা হলেও সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোনও কথাই উল্লেখ ছিল না। এমনকি মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত ইসলামীর কী ভূমিকা ছিল তাও কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। 

জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শেখ মুজিব থাকলেও জিয়াউর রহমান কিংবা খোদ জামায়াতের না থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ চিত্র প্রদর্শনীতে এসব দেখা যায়। চিত্র প্রদর্শনীতে দেখা যায়, ১৯৪৭, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। 

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৭ মার্চে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী অবস্থা, কীভাবে বাঙালিরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের একনায়কতন্ত্র কায়েমসহ ভোগবিলাসী জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 

জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধের এমন ইতিহাস সম্পর্কে চিত্র প্রদর্শনীতে আসা একজন দর্শনার্থী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি—এটা অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই। জামায়াত এটা স্বীকার করে নিয়েছে, এটা পজেটিভ। কিন্তু কাউকে বাদ দেওয়া বা খাটো করা উচিত হয়নি। আবার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তৎকালীন সময়ে কালুরঘাট বেতারকন্দ্র থেকে স্বাধীনতার যে ঘোষণা সেটাও বাদ দেওয়া উচিত হয়নি। এমনকি জামায়াতের নিজের কী ভূমিকা ছিল তাও দেখানো হয়নি।

জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান থাকা এবং জিয়াউর রহমান কিংবা জামায়াতের না থাকার বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা যতটুকু বুঝেছি, এটা কোনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস না। এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ যে স্বৈরাচার হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষ; ৪৭-এ একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল, ৭১-এ এবং ২৪-এ একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেখানে বেসিক্যালি এটা দেখানো হয়েছে যে আওয়ামী লীগ একটা স্বৈরাচারী দল, বাকশালী দল, গণতন্ত্র হরণকারী দল। এইটাকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য যে যে ছবি প্রয়োজন, উনারা সেগুলা ব্যবহার করেছেন। এটা পুরো বাংলাদেশের ইতিহাস কভার করছে—এ রকম না। সেখানে আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার হওয়া, হাসিনার বাকশাল গঠন করা এবং ওই বাকশালের সঙ্গে রিলেটেড ছবিগুলা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাস বা পুরো হিস্ট্রি হলে অবশ্যই জিয়াউর রহমানের ঘোষণা থাকতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের গাইড করতে গিয়ে জামায়াত সেখানে বলেছে, শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনা কীভাবে স্বৈরাচারী হয়ে উঠলো- এই আরকি। মানে তারা যে স্বৈরাচার বা বাকশাল কায়েম করছে—এটা ফোকাস করছে তারা। মূল উদ্দেশ্য ছিল বেসিক্যালি স্বৈরাচার এবং মাফিয়াতন্ত্র দেখানো।

জামায়াতের চিত্র প্রদর্শনীর বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এককথায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের অবিকৃত ইতিহাস চাই।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সবার কাছে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেন যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান সাহেব তার স্বীকৃতি নেই।’ একইসঙ্গে ‘শেখ মুজিবুর রহমান কবে, কোথায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, সেই প্রশ্নও করেছিলেন তিনি।

/এএইচএস/আইএএম/
সম্পর্কিত
সংবিধান সংশোধন-সংস্কার বিতর্ক, শেষ পর্যন্ত কোন পথে বিএনপি?
বিএনপিতে যোগ দিলেন জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের ১২ অনুসারী
ভারত শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেছে: গোলাম পরওয়ার
সর্বশেষ খবর
জাপানে আঘাত হানলো টাইফুন ডলফিন, চীনে বন্ধ বন্দর-ফেরি
জাপানে আঘাত হানলো টাইফুন ডলফিন, চীনে বন্ধ বন্দর-ফেরি
বিপদসীমার ওপরে কুশিয়ারা নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
বিপদসীমার ওপরে কুশিয়ারা নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাচ্ছে ৫ লাখ টাকা করে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাচ্ছে ৫ লাখ টাকা করে
ইতিবাচক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা কেন প্রয়োজন? 
ইতিবাচক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা কেন প্রয়োজন? 
সর্বাধিক পঠিত
সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংস-ডিমে বাড়ছে চাপ
সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংস-ডিমে বাড়ছে চাপ
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা: যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা: যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ
ছুটিতে থাকা ৫ শতাধিক শ্রমিক জানলেন তাদের আর চাকরি নাই
ছুটিতে থাকা ৫ শতাধিক শ্রমিক জানলেন তাদের আর চাকরি নাই
কনসার্টে বোতল ছুড়ে মারার ঘটনায় মুখ খুললেন হাসান 
কনসার্টে বোতল ছুড়ে মারার ঘটনায় মুখ খুললেন হাসান 
হলের ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি তুলে প্রেমিককে পাঠাতেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
হলের ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি তুলে প্রেমিককে পাঠাতেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী