সম্প্রতি বেফাঁস বক্তব্য দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন দায়িত্বশীল পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। এ কারণে পরবর্তীকালে নিজেদের পক্ষ থেকে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিতে হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ ক্ষমাও চেয়েছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের মন্তব্য। গত ২১ অক্টোবর ভোলায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরাই এমপি-মন্ত্রী হন। আর সবচেয়ে দুর্নীতিবাজরা নেতৃত্বে চলে আসেন।’ অবশ্য পরে বক্তব্যটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তিনি ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, তার মন্তব্যটি ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পরিস্থিতি নিয়ে।
যদিও রাজনীতিকদেরই কেউ কেউ তার এই বক্তব্যকে আত্মসমালোচনা ও সত্য বলার সাহস হিসেবে দেখছেন। আবার কারও কারও মতে, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য দায়িত্বহীনতার শামিল।
এছাড়াও সম্প্রতি দুর্গাপূজার মণ্ডপে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বিএম আশরাফ হোসেন নিজান। আর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয় দুই প্রবাসী বাংলাদেশিকে ‘পাপের লাশ’ বলে সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
সরকারের গুরত্বপূর্ণ পদে থেকে নেতাদের এ ধরনের বেফাঁস মন্তব্য ও দুঃখপ্রকাশকে সহজভাবে নিতে রাজি নন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। বরং এতে সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
যেসব মন্তব্যের জন্য ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে দায়িত্বশীলদের
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার দলীয় এবং বিরোধী দলের অনেকেই বেশি বেফাঁস মন্তব্য করেছেন। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামের এমপি ও আলোচিত ইসলামী বক্তা আমির হামজা। অবশ্য একাধিকবার দল থেকে সতর্ক করার পর তিনি সংযত হয়ে চলছেন তিনি।
জাতীয় সংসদে নিজের জীবিত বাবাকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বলে আলোচনায় আসেন আরেক নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এমপি ও সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল মুনতাকিম। পরে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশও করেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের মন্তব্যের জন্য আলাদা করে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের তিন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে। কারণ তাদের বক্তব্যকে অনেকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। তাই সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাদের।
এ মধ্যে গত ২১ অক্টোবর ভোলার তজুমদ্দিনে বিএনপির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরাই এমপি ও মন্ত্রী হন। আর সবচেয়ে দুর্নীতিবাজরা নেতৃত্বে চলে আসেন।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইথিওপিয়ার তুলনায় আমরা দেখেন কোথায় চলে গেছি, এখানে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজরা সমাজের বড় নেতা হয়ে গিয়েছে। এটার জন্য আমি আপনাদের দোষ দিই না। সমাজব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে, ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়াবার সুযোগ নাই। সৎ লোকের রাজনীতি করার পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করতে পারি নাই। যাই হোক, দেশ এরকম থাকবে না।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘যাই হোক এরকম দেশ থাকবে না। এই আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে যেহেতু আমরা মুক্ত হয়েছি আগামী দিনে নিশ্চয়ই আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের ওপর দয়া করবেন। আমাদের দেশে একটা সুন্দর সমাজ আমরা গঠন করতে পারবো।’
অবশ্য আলোচেনা-সমালোচনার মুখে পরে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কথাগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে বলেছি। তারা এমনভাবে একটা পরিবেশ তখন সৃষ্টি করে দিয়েছে, সমাজের সৎ নিরপেক্ষ ভালো লোকের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। আশা করি এই অবস্থার অবসান হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এক বছরও পূর্ণ করেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তাদের কাছ থেকেও যথেষ্ট উদ্যোগ দেখেননি।
অবশ্য তার আগের বক্তব্যের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। ২৩ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, রাজনৈতিক দলগুলো ভালো বা যোগ্য মানুষ দেখে মনোনয়ন দেয় না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে গেলেও প্রতিটি পদক্ষেপে হেনস্তার শিকার হতে হয়। স্পিকারের বক্তব্যে তার মনে হয়েছে, ভালো কিছু করার সদিচ্ছা তার রয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দুর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এমপি এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি—কেউ আমার সঙ্গে থাকুক আর না থাকুক। ভগবান আমাকে শক্তি ও সামর্থ্য দেন।’ তার এ বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সমালোচনার মুখে গত ২৩ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ বিষয়ে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। এতে উল্লেখ করেন, তার বক্তব্যের যে অংশটি ধর্মীয়ভাবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, সে জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেন।
আর গত ১৭ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক-শোতে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নিয়ে বলছি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনায় পরেন তিনি। ১৯ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এ বক্তব্যকে ‘অনুচিত’ হিসেবে স্বীকার করেন। বলেন, এমন বক্তব্য দেওয়া তার একদমই ঠিক হয়নি। ভুল মানুষের হতেই পারে। তবে ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত। তাই নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
স্পিকারের বক্তব্যের ‘যথার্থতা’ নিয়ে দুই মত
নিজের করা মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেও তার বক্তব্যের যথার্থতার কথা বলছেন রাজনীতিকদের একটি অংশ। তারা বলছেন, তিনি (স্পিকার) নিজের দলের নেতাদের বিষয়ে এমন মন্তব্য করে থাকলে তা আত্মসমালোচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ঢালাওভাবে সব রাজনীতিবিদকে একইভাবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। অন্য পক্ষ মনে করে, বর্তমান সংসদে অনেক যোগ্য ব্যক্তি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। সবাই অন্যায়কারী নন। তাই এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্পিকার হয়তো আত্মসমালোচনা থেকে এ ধরনের মন্তব্য করে থাকতে পারেন। তার দলের অনেক নেতাকর্মীই দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির দায়ে অভিযুক্ত। স্পিকারের সত্য বলার অভ্যাস আছে। দায়বোধের জায়গা থেকে তিনি অতীতেও এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্যকে সাধুবাদ জানান সারোয়ার তুষার।
তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বসে রাজনীতিবিদ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। তার মতে, এটি চরম দায়িত্বহীনতা। ইতোমধ্যে সরকারি আমলাদের বিষয়েও স্পিকার অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক। তার এ ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোলার এক অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের...অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার সব দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়। বাংলাদেশে দিনরাত কান্নাকাটি, বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও এই অপরাধের কোনো বিচার তাদের হয় না।’
এসব বক্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও স্পিকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া উচিত বলে মনে করেন সাইফুল হক। তার মতে, স্পিকার এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের খাটো করেছেন। দুই-একজনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সবাইকে দোষারোপ করা দায়িত্বশীল কাজ হতে পারে না।
সরকার ও বিরোধী দলের একই ব্যাখ্যা
সরকারের আট মাসের মাথায় স্পিকারের মন্তব্যকে অনেকে বিস্ফোরক হিসেবে আখ্যা দিলেও এ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে মিল দেখা গেছে। তাদের দাবি, স্পিকার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিষয়ে নয়।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তার জানামতে স্পিকার বর্তমান সময়ের কথা বলেননি। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেছেন। স্পিকার নিজেও এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাই এ বিষয়ে আলাদা করে মন্তব্য করার কিছু নেই। তবে যারা অন্যায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান সব সময় একই থাকবে।
একই দাবি করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সহসম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘না। স্পিকার স্পষ্টবাদী মানুষ। তিনি তার জায়গা থেকে অনেক কথাই বলতে পারেন। তবে তিনি বর্তমান সরকারের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছেন বলে আমি মনে করি না। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আসলে অতীতে তো এ ধরনের চিত্র ছিলই। তাই তিনি মিথ্যা কিছু বলেননি।’
নিলোফার চৌধুরী মনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ক্ষমতাসীন দলের কারও বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে বিএনপির কেউ অন্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে প্রধানমন্ত্রী শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছেন।
‘বলার আগে অবশ্যই হিসাব-নিকাশ করে বলা উচিত’
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের হুইপ লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজান ও মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতনের মন্তব্য ও পরবর্তীকালে ব্যাখ্যা দেয়ার বিষয়টি হালকা করে দেখতে চান না বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন অসতর্ক বক্তব্যেরে কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই কথা বলার আগেই ভেবে-চিন্তে বলা উচিত বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজনীতি বিশ্লেষক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত, আমরা মনে করি রাজনীতিবিদ যখন বক্তব্য দেন, তার বিশ্বাস অনুযায়ীই দেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সমালোচনার মুখে নিজের বক্তব্যের ব্যাপারে পিছু হটেন। তাই অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ীই কথা বলা উচিত। কারণ কথার মধ্যে প্রত্যেকটি ব্যক্তির বিশ্বাসের চিত্রও ফুটে উঠে। আরেকটি কথা না বললেই নয়, সেটি হলো কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি ভাইরাল হওয়ার জন্য বিতর্কিত মন্তব্য করেন। পরবর্তী সময়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আবার ক্ষমাও চাইতে হয়। তাই কথা বলার আগে অবশ্যই হিসাব-নিকাশ করে বলা উচিত।’