জাসদ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ঝড় তোলা বক্তব্য কোনও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর ভেতরে। এ প্রশ্নে শরিক দলের নেতারা বলেন, জাসদকে নিয়ে দেওয়া আশরাফের এ বক্তব্য ঠিক, তবে সময় উপযোগী নয়। তাদের মতে, এ সময়ে এমন কঠিন সত্য বলার পরিবেশ দেশে নেই। এছাড়া সৈয়দ আশরাফের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত, এতে জোটের ঐক্যে ফাটল ধরবে না।
গত সোমবার (১৩ জুন) ছাত্রলীগের একটি কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, জোটের অন্যতম শরিক দল জাসদ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল। জাসদ হটকারী দল। জাসদের একজনকে মন্ত্রী বানানোর মাশুল দিতে হবে। তার এ বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ঝড় তোলে। মেলানোর চেষ্টা করা হয় নানা যোগসূত্র। কিন্তু জোটের শরিক দলগুলো এ বিষয়ে নির্বিকার। তবে জাসদের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানিয়ে দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বক্তব্য দেওয়া হলেও জোটের অন্য শরিক অন্য দলগুলোর কেউ কোনও বক্তব্য-বিবৃতি দেননি।
আলোড়ন সৃষ্টি করা বক্তব্যটি নিয়ে জোটের নেতাদের কেউ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অভিযুক্ত করছেন না। শুধু তারা বলছেন, জাসদের অতীত নিয়ে সমালোচনা করার মতো সময় এখন নয়। জোটের শরিক দলের নেতারা আরও বলেন, এটা জাসদের বিষয়। এই নিয়ে দফারফা আওয়ামী লীগ ও জাসদ করবে। এতে জোটের ঐক্যের ক্ষেত্রে ফাটল সৃষ্টি করবে না। এই বক্তব্য জোটগতভাবেও কোন সমস্যার তৈরি করবে না।
জোটের শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাসদকে নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তা মিথ্যা, সেটা বলব না। তবে তার এ বক্তব্য সময়োচিত হয়নি। কেন বলেছেন, তা ১৪ দল জানার বোঝার চেষ্টা করছে। এটা নিয়ে জোটের ভেতরে দূরত্ব তৈরি করবে বলে মনে করি না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য ব্যক্তিগত। আমরা তাই ধরে নিয়েছি। তবে, সত্য যে বিষয়টি সেটা হলো দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে, এটা ব্যক্তিগত বক্তব্য হতে পারে না। যাই হোক এটা আওয়ামী লীগ আর জাসদ রফাদফা করবে। তিনি বলেন, এতে করে জোটের ঐক্যে কোনও বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।
জানতে চাইলে জোটের অন্য শরিক ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, সৈয়দ আশরাফের মতো একজন ভদ্রলোক যখন কথা বলেন, সেটা এক ধরনের ‘মিন’ করেই বলেন। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, এ বক্তব্য সৈয়দ আশরাফের ব্যক্তিগত। এনামুল হক বলেন, সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যে সত্য-মিথ্যার দিকে না গিয়ে আমি বলব কারও অতীত নিয়ে সমালোচনার সময় এখন নয়। সময়টা এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার মতোও নয়। এখন দেশের ক্রান্তিলগ্ন চলছে। এখন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের যে সংগ্রাম চলছে, তাতে সবাইকে ঐকবদ্ধ করার সময়। সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য জোটে বিরূপ প্রভাব ফেলার কোনও আশঙ্কা নেই।
জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একজন ভদ্র রাজনীতিবিদ। জাসদকে নিয়ে তার বক্তব্যের ‘মিনিং’ কী, একমাত্র তিনিই বলতে পারবেন। আমি মনে করি, ১৪ দলীয় জোটের ভেতরে এটা নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে না।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দলীয় জোটের কোনও দলের ভেতরে সৈয়দ আশলাফের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
জোটের অন্য শরিক দল কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক অসিত বরণ বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একজন ভদ্র রাজনীতিক হিসাবে ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছেন। হঠাৎ জাসদকে নিয়ে তার বক্তব্য কেন, এর হেতু বুঝিনি। তবে, এতে জোটের ঐক্যে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জোটের শরিক একটি দলের সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ইতহাস বিচার করতে গেলে জাসদকে নিয়ে দেওয়া সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য শতভাগ সত্য। কিন্তু এ সময়ে কি এমন সত্য বলার পরিবেশ দেশে বিরাজ করছে? ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য হলে অন্য কথা ছিল।
/এমএনএইচ/







