কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে দলীয় মেয়রপ্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার পক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দলটির অন্তত দুই ডজন কেন্দ্রীয় নেতা কাজ করলেও স্থানীয় নেতারা নিজস্ব বলয় তৈরিতেই ব্যস্ত। এই নির্বাচনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেই নিজস্ব বলয় তৈরি করতে চাইছেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এমন তথ্য দিয়েছেন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও।
খোঁজ নিয়ে জান গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আফজল খান, আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের মধ্যে রাজনৈতিক বলয় তৈরির প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি। বাহার-আফজল একে অন্যের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই রেলমন্ত্রী নতুন করে কুমিল্লায় নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বাহার আরও বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
তবে অ্যাডভোকেট আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় তিনি নিজে কিছুটা নির্ভার। মেয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে স্থানীয় রাজনীতি আপনা থেকেই তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেই তার ধারণা। তাই এই মুহূর্ত তিনি রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টির চেয়ে নির্বচনে জেতার কৌশলে ব্যস্ত। আফজল-বাহারের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কুমিল্লার রাজনীতিতে তেমন একটা জায়গা করে নিতে পারেননি রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ের বলয় তৈরির সুযোগ তৈরি নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে আফজলের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী বাহার মনে করছেন কুমিল্লার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য তার নিজের রয়েছেই। এখন আফজলের মেয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে তার আধিপত্যে ভাগ বসানো হবে। তাই নিজের আধিপত্যে ধস নামুক, চান না বাহার। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লায় রেলমন্ত্রীর অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা বাহারকে আরেক বিপদ সংকেত দিয়ে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণায় নিয়োজিত কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার মতে, স্থানীয় নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জয় অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। তবে, ৩০ মার্চের নির্বাচনের আগেই এমন অবস্থার অবসান ঘটবে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমিল্লা নির্বাচনে স্থানীয় কিছু বিরোধ এখনও রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে এসব বিরোধ মীমাংসা করে ফেলতে পারব। দুই/একদিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। নৌকার প্রার্থীই জয়ী হবেন।’
আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নানা কারণে কুমিল্লায় কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। কুমিল্লায় নৌকার ভোট বেশি। কর্মী-সমর্থকও বেশি। এখানে রাজনীতিতে আধিপত্যের একটি হিসাব-নিকাশ চলছে। এ কারণে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। তবে আধিপত্য সৃষ্টির পেছনের হোতাদের শিগগিরই দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুঁশিয়ার করে দেবেন। আশা করছি, দুই/একদিনের মধ্যেই এই জটিলতার অবসান হবে। জয় আমাদেরই হবে।’
জানতে চাইলে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি অস্বীকার করেন কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলার সাধারণ সম্পাদক ও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। আমি মন্ত্রী হওয়ায় নির্বাচনি কাজে অংশ নিতে পারছি না। রাজনীতি স্থানীয় রাজনীতিতে নিজস্ব বলয় তৈরির অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা।’
জানতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারও স্থানীয় রাজনীতিতে বলয় তৈরির অভিযোগকে মিথ্যা-ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। নৌকাই জিতবে ৩০ মার্চের নির্বাচনে।’
জানতে চাইলে কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখনও হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি থাকলেও সেখানে ভোটের হাওয়া এখনও লাগেনি। লেগেছে রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টির হাওয়া।’
কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমিল্লায় রাজনৈতিক যে বিরোধ আছে, তা অচিরেই শেষ হয়ে যাবে। কয়েকদিন আগেও যে বিরোধপূর্ণ অবস্থা ছিল, তা এখন অনেকাংশেই কমে এসেছে।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন: দু’দলেই গ্রুপিংয়ের ক্ষত
/এমএনএইচ/








