গুজব তৈরির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বা সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যেই জনগণকে উসকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই গুজব ছড়ানো হয়। আমরা বরাবরই দেখেছি, গুজব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়।’ শনিবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক প্রতিরোধ মোর্চা’ আয়োজিত ‘গুজব ও অপপ্রচার রোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
হানিফ বলেন, ‘২০১৩ সালে মতিঝিলে হেফাজত নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল সেটিও একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল। এখনও যে গুজবগুলো হচ্ছে, সেগুলোও কিন্তু রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে করা হচ্ছে। প্রত্যেকটা অপপ্রচারের পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে।’
কথা বলায় কোনও বাধা নেই উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন টকশোতে, মিডিয়াতে, প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা (বিএনপি) কথা বলে যাচ্ছে। গত দুই দিনে আমরা দেখলাম, এমনও কথা বলা হলো, বিএনপি অফিসের সামনে আওয়ামী লীগ ডেঙ্গু মশাগুলো ফেলে দিয়ে গেছে, যার ফলে বিএনপিকর্মীদের ডেঙ্গু হচ্ছে। এটাও দেশবাসী দেখছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে কথা বলার ক্ষেত্রে কোনও বাধা আছে বলে মনে করি না।’
বিচারব্যবস্থা নিয়ে হানিফ বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে বলে আমরা জানি। বিচারের ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ আছে, এ অভিযোগটি ঠিক নয়। মির্জা ফখরুলের আজ-কালের একটি বক্তব্য শুনলে আপনারা বুঝতে পারবেন। ফখরুল সাহেব বলেছেন, সরকার বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। আর তিনি আজকে বা গতকাল বলেছেন, সরকার আছে নাকি? এখন তো বিচার বিভাগ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেটাই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হয়। তার মানে বিচারব্যবস্থা বা আদালত এখন সরকার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। এ কথাই তো, তার কথা থেকে প্রমাণিত হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অপপ্রচার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ববোধ আছে, তেমনি ধর্মীয় সংগঠনেরও দায়িত্ববোধ আছে। সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব মনে করি, আমাদের অভিভাবকদের।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. এমরানুল হাসান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক খায়ের মাহমুদ প্রমুখ।







