৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাজধানীর ১৮টি স্থানে সভা-সমাবেশ ও আনন্দর্যািলি করার কথা ছিল আওয়ামী লীগের। কিন্তু জনমনে এই কর্মসূচি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে ও সমালোচনার সৃষ্টি করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে ওই কর্মসূচি কাটছাঁট করেছে ক্ষমতাসীন দলটি। দলের একাধিক নেতা মনে করেন,দুর্বল বিএনপিকে মোকাবেলা করতে আওয়ামী লীগের এতগুলো কর্মসূচি হবে ‘মশা মারতে কামান দাগার মত’। তাই শীর্ষ নেতৃত্বের ইশারায় এ কর্মসূচি কমিয়েছে আওয়ামী লীগ। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এমন আভাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখতে রাজধানীজুড়ে ১৮টি স্থানের কর্মসূচি কমিয়ে এখন মাত্র দুটি স্থানে কর্মসূচি নিয়ে থাকবে ক্ষমতাসীনরা। একটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে, অপরটি ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে।
প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি কমানোর পেছনে জনভোগান্তি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপির) অনুরোধের কথা বললেও ভেতরের কারণগুলো ভিন্ন বলে জানা গেছে।
দলের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, পৌরসভা নির্বাচনের পরে বিএনপির আচরণ এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তাই বিএনপি মাঠে নেমে যদি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায় তাহলে তাদের সে সুযোগ দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ১৮টি স্থানে কর্মসূচি ও বিএনপির একটি কর্মসূচি দৃষ্টিকটূ হবে। এক্ষেত্রে ইতিবাচক এ চিন্তাও করছে ক্ষমতাসীনরা। তাছাড়া, আওয়ামী লীগ মনে করছে, বিএনপিকে মাঠে নামতে দিলেও তেমন সমস্যার সৃষ্টি হবে না। বরং মাঠে নেমে জনশূন্য সভা-সমাবেশে বিএনপির দুর্বল চেহারা ফুটে উঠবে।
শীর্ষ নেতারা বলছেন, ৫ জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের ১৮টি কর্মসূচি আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির সমসংখ্যক কর্মসূচি না থাকলে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলবে। এগুলো সরকার ও দলের ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এখন আওয়ামী লীগের দুটি, আর বিএনপির একটি কর্মসূচি পালন সমতার সৃষ্টি করেছে। এটি সরকার ও দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
অপর একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপিকে একটি কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া যেতে পারে। তবে দলের কোনও কোনও নেতা মনে করেন- সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে বিএনপি-জামায়াত। তাদের কাছে জনগণের-জানমালের মূল্য নেই।
যাই হোক, সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখতে রাজধানীজুড়ে ১৮টি স্থানের কর্মসূচি কমিয়ে দুটি স্থানে কর্মসূচি নিয়ে থাকবে ক্ষমতাসীনরা। একটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অপরটি ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে। পাশাপাশি বিএনপিকেও একটি কর্মসূচি পালন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন এতে করে সমালোচনা হওয়ার আর কোনও সুযোগ রইল না।
তবে ওইদিন কর্মসূচি কমানো হলেও সারা ঢাকায় কড়া সতর্কায় থাকবে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি যাতে সমাবেশে কোনও বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করার পেছনে অন্যতম কারণ হলো জনভোগান্তির কথা বিবেচনায় নেওয়া। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জনভোগান্তির কথা চিন্তা করে আমাদের অনুরোধ করায় আমরা কর্মসূচি কাটছাঁট করেছি। এর পেছনে অন্য কোনও কারণ নেই।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ৫ জানুয়ারি নগরজীবন স্বাভাবিক রাখতে আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছে। আওয়ামী লীগ এখন সরকারে। জনগণের ভোগান্তি সরকারকেই দেখতে হবে।
/পিএইচসি/এমএসএম /এএইচ /








