বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পাকিস্তানের চর হিসেবে দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছে অভিযোগ তুলে তাকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে দলটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
মঙ্গলবার ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে দলের নেতারা এ আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির নাম উল্লেখ করে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, তারা উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষকতা করে অন্য শক্তিকে আহ্বান জানাচ্ছে। বাংলাদেশকে তারা পাকিস্তানের মতো একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে।
২০১৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই নির্বাচন না হলে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হতো, বাংলাদেশ রাজাকারদের দেশে পরিণত হতো।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া বিলাপ দিবস পালনের নামে বিলাপ করছেন। পাকিস্তানের চর হিসেবে তিনি এ দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছেন।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ অভিযোগ করে বলেন, গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সেখানে জনসভার আবেদন করে আমাদের বঞ্চিত করেছে।
খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া মনেপ্রাণে পাকিস্তানি। যদি খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে আপনারা দলকে ঢেলে সাজান, তাহলে দেশের মানুষ আপনাদের সত্যিকার বিরোধী দল হিসেবে মনে করবেন।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা জিয়া ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে ৬৪ জন মানুষ হত্যা করেছেন, ১৫শ’ মানুষকে আহত করেছেন, ৭শ’ গাড়ি পুড়িয়েছেন, ৭০ হাজার ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। তিনি কিসের জন্য মানুষ হত্যা করলেন, গণতন্ত্রের জন্য? গণতন্ত্রের জন্য কোনও মানুষ হত্যা করতে হয় না, গাড়ি পোড়া হয় না।
খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশটাকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। দেশ যাতে এগিয়ে যেতে না পারে সেই উদ্দেশ্যে রক্তের হোলি খেলেছিলেন। এ দেশের মানুষ কোনওদিন আপনার অপকর্ম ভুলে যাবে না।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। এদেশে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু। সেখানে একটি জীবনও হত্যা করার প্রয়োজন হবে না। সমাবেশ প্রমাণ করেছে- জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে দেশকে আরও শক্তিশালী করব।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল মতিন খসরু, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, হাজী মো. সেলিম, আওলাদ হোসেন প্রমুখ।
/ইএইচএস/ এএইচ /








