বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের সঙ্গে নিজের শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, ‘শিশুদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, তিনি শিশুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। আমার শিশু বয়সে তার সাথে মধুর স্মৃতি রয়েছে।’
শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (৯ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকা হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলায় যুবলীগের অক্সিজেন ব্যাংকগুলোতে বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ স্মৃতিচারণ করেন পরশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে দাদি ডাকতেন যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি তার শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, একদিন আমার মায়ের সাথে ধানমণ্ডি ৩২, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গেলে তাদের বাচ্চাসহ একটি মুরগি আমার খুব পছন্দ হয়ে যায়। সেটি বঙ্গমাতা টের পেয়েছিলেন। কিন্তু মায়ের কারণে বাসায় আনতে পারি নাই। কাঁদতে কাঁদতে সেদিন বাসায় ফিরেছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে দেখি মুরগী ও মুরগীর বাচ্চা আমার বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। এটাই ছিল শিশুদের প্রতি বঙ্গমাতার ভালোবাসা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান আরও বলেন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব ছিলেন স্বশিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি ছিলেন অতিথি পরায়ণ, তার হৃদয় ছিল মহানুভবতায় ভরপুর, দুঃসময়ে ছিলেন ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক।
পরশ বলেন, কীভাবে দুঃসময়ে মাথা ঠান্ডা রেখে এগিয়ে যেতে হয়, তা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি। ছয় দফা থেকে-১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এই দুর্বিষহ সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন সময়ে যখন জেলে বন্দি থাকতেন; তখন দিশাহারা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পথপ্রদর্শক ছিলেন বঙ্গমাতা।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিও ছিল তার অকৃত্রিম ভালোবাসা। জীবন দিয়ে তা প্রমাণ দিয়েছেন। এদেশের মুক্তির আন্দোলনে, মুক্তির সংগ্রামে সবচেয়ে বড় দেশ প্রেমিকের নাম বঙ্গমাতা। এদেশের মুক্তি-সংগ্রামের নেপথ্যের বড় গেরিলা যোদ্ধার নাম বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার যে চারিত্রিক গুণাবলিতে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সরলতা ও মহানুভবতা দেখতে পাই তা তিনি বঙ্গমাতার চারিত্রিক গুণাবলি থেকে লাভ করেছেন।
এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মাজেদা হাসপাতাল অক্সিজেন ব্যাংক, শেখ ফজলুল হক মণি ও আরজু মণি অক্সিজেন ব্যাংক (যশোর)-কে ১২০ কেজি ওজনের ১০টি করে সিলি-ার এবং গাজীপুর মহানগর যুবলীগ, পাবনা জেলা যুবলীগ, কুমিল্লা মহানগর যুবলীগ, খুলনা মহানগর যুবলীগ, মাগুরা জেলা যুবলীগ, লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগ, সিলেট মহানগর যুবলীগ, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগ, পটুয়াখালী জেলা যুবলীগ, কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগ, চাঁদপুর জেলা যুবলীগ ও শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের অক্সিজেন ব্যাংকে ৩০ কেজি ওজনের ৫টি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করা হয়।
পরশ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগকে অক্সিজেন দিয়ে পাশে থাকার জন্য আবুল খায়ের গ্রুপ ও নাভানা গ্রুপের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এই করোনার মহামারিতে নানাভাবে মানুষের পাশে রয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেন বলেই এতটা কষ্ট, এতটা ত্যাগ স্বীকার করে মানুষের সেবা করে চলেছেন। মনে রাখবেন শুধু মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেই মানুষ হওয়া যায় না। কর্মের মাধ্যমে মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছায়। মানুষের জন্য কাজ করে যান, আপনারাও সফলকাম হবেন।
তিনি যুবলীগের টেলিমেডিসিন ও স্বাস্থ্য সেবার সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ দেন।
এসময় যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বক্তব্য রাখেন। আরও উপস্থিত ছিলেন-যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. মামুনুর রশীদ, ডা. খালেদ শওকত আলী, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলাম, ডা. মো. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাফত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাফত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, ভারপ্রাফত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিক, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফরিদ রায়হান, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. হারিছ মিয়া শেখ সাগার, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুল হাই, উপ-প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী, উপ-দফতর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সফেদ আশফাক আকন্দ তুহিন, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ (আইটি) সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহফুজুর রহমান উজ্জল, সহ-সম্পাদক আবির মাহমুদ ইমরান, তোফাজ্জল হোসেন তোফায়েল, কার্যনির্বাহী সদস্য প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম, ডা. আওরঙ্গজেব আরু, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মফিজুর রহমান জুম্মাসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা ও বিভিন্ন ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।









