জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার বদলা নিতে হলে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের নতুন করে শপথ নিতে হবে। নতুন প্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে পারলেই জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে।’
শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বিকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস স্মরণে সংগঠনটি এই আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।
নানক বলেন, ‘মৃত্যুশয্যায় বঙ্গবন্ধুর তর্জনী যে নতুন সূর্যোদয়ের ইশারা দিয়ে গিয়েছিল, কাল থেকে কালান্তরে এসে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের স্টিমারে করে সম্মুখ পানে সওয়ার করে চলেছেন। তিনি আগস্ট বেদনার মহাকাব্যের শোককে চিরধার্য শক্তিতে রূপায়িত করেছেন বলেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আজ গভীর দুর্যোগের অভিজ্ঞতা যখন নতুন করে বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রগুলোকে আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমাদের সকলকে মনে করতে হবে। বাকশালকে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে কেন বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। আর কেনই বা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার প্রণোদনা এসেছিল, আর কাদের মদতেই বা এসেছিল।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার সকল দুরভিসন্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ও পাকিস্তানের চক্র এবং এ দেশীয় দালালদের গোপন আঁতাতের কথা আজ দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। আজ মানুষ বুঝতে পেরেছে বঙ্গবন্ধু হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে বাংলাদেশের নাম চিরতরে মুছে ফেলবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে। কিন্তু তাদের এই বিশ্বাসঘাতকতা-উচ্চাভিলাষী ধ্যান-ধারণা বাস্তব রূপ লাভ করেনি।’
শেখ রাসেলকে স্মরণ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আগস্টের আগে তার প্রিয় হাসু আপার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে জার্মানি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জন্ডিসে আক্রান্ত হবার কারণে তিনি তার হাসু আপার সঙ্গে যেতে পারেননি। সেদিন যদি তিনি জার্মানি যেতে পারতেন, তাহলে হয়তো বাংলার অদম্য আলোর পাখিকে ঘাতকের বুলেটে ভূপাতিত করতে পারতো না। শেখ রাসেল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য বাংলার অমৃত সূর্যোদয়ের প্রবল সম্ভাবনার প্রতীক।’
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রকিবুর রহমান ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আইন সম্পাদক কাজী নজিবুল্লাহ হিরুসহ সংগঠনের মহাসচিব কে এম শহিদ উল্যা।








