গত ১৪ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হওয়া ছাত্রদলে দিনে-দিনে ক্ষোভ বাড়ছে। একদিনে বর্তমান সেক্রেটারি আকরামুল হাসানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য, অন্যদিকে আগামী মেয়াদে কারা আসবেন দায়িত্বে, এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ লড়াই-কোন্দল। এ কোন্দল এখন ছড়িয়ে পড়েছে প্রকাশ্যেও। মঙ্গলবার বিকালে এর রেশ দেখা গেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও।
ছাত্রদলের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নেতাকর্মী জানান, নতুন কমিটি গঠন ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই জটিলতা চলছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবারও নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল ছাত্রদলের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপের উপস্থিতি।
এদিন বিকেল ৪ টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজীদ আরেফীন। এ সময় তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কার্যালয়ের পাশে হোটেল ভিক্টোরির সামনে অবস্থান নেন।
কিছুক্ষণ পরই ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ কার্যালয় থেকে নিচে নেমে এলে বায়েজীদ আরেফীনের সমর্থকরা তাকে মারার জন্য ধাওয়া দিলে মোটরবাইকে উল্টো পথে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন সোহাগ। যানজট থাকায় পরে বাইক রেখেই নিরাপদে চলে যান তিনি। একই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকায় কোনও ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
এই উত্তেজনা শুরু হয় সোমবার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের বক্তব্যে। নতুন কমিটি গঠন, চলতি কমিটি না ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে তিনি হাইকমান্ডকে জানানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
এ নিয়ে সংগঠনের ৫০জনের বেশি নেতাকর্মী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার হস্থক্ষেপ চেয়েছেন।
এ ব্যপারে জানতে চেয়ে মিজানুর রহমান সোহাগ, বায়েজিদ আরেফিনকে কল করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, নতুন কমিটি গঠন বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে আগ্রহী নন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক যুগ্ম সম্পাদক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কমিটি গঠন ও সেক্রেটারি’র বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেকোনও সময় নয়া পল্টনে সংঘর্ষ হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রদলের নতুন কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ধাপে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৭৩৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনটি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর পর কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এখনপর্যন্ত নতুন কমিটি গঠনের কোনও উদ্যোগ নেয়নি হাইকমান্ড।
এসটিএস /এমএনএইচ/








