সিনিয়র আট নেতার বিরুদ্ধে ১২৫ কোটি টাকার ‘সন্দেহজনক লেনদেনে’র অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে বিএনপি। সংশ্লিষ্ট আট নেতা জানিয়েছেন, বিএনপিকে কালিমালিপ্ত করতেই এই বানোয়াট অভিযোগ তুলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি নেতারা। এ সময় দলের সিনিয়র এই আট নেতা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
অভিযুক্ত আট নেতা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়াল।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বাধা দিতে ও বিএনপিকে কালিমালিপ্ত করতেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সারা জীবনেই সাত কোটি টাকা লেনদেন করেছি বলে মনে হয় না। আসলে এটা নোংরা রসিকতা। দুদক মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছে। তারা (দুদক) নিজেদের স্বাধীন বলে দাবি করে। আসলে কী তারা স্বাধীন?’
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে লিখতে পারেন, মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের নীতিভ্রষ্ট করা যাবে না, আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করা যাবে না। আমরা দীর্ঘ রাজনীতি করে বর্তমান পর্যায়ে এসেছি।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এসব অভিযোগ একদলীয় শাসন কায়েমের অংশ। আসলে সরকার আর্থিক খাত ধ্বংস করে টাকা লুট করেছে। দুর্নীতিও আজকে একদলীয় হয়ে গেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘একদলীয় প্রচারণার জন্য আওয়ামী লীগ ২৫টি পোর্টাল খুলেছে। তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে শুধু ক্ষমতা দখলের জন্য।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘ব্যবসা করি, লেনদেন হতেই পারে। কিন্তু দুদকের অভিযোগ বানোয়াট। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গোয়েন্দা সংস্থার উচিত মানুষকে সত্যটা জানানো, কারও বিশেষ কাজে ব্যবহৃত না হওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুদককে বলবো—জনগণের টাকায় আপনাদের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জনগণকে হয়রানি করবেন না। বরং সুষ্ঠু তদন্ত করুন। নইলে এই দেশ ধ্বংসের জন্য আপনারা দায়ী থাকবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতেই দুদককে কাজে লাগানো হচ্ছে। হঠাৎ করে বিএনপির সিনিয়র নেতা ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে অবৈধ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও বানোয়াট।’
রিজভী বলেন, ‘সরকার দুদককে দিয়ে নতুন প্রকল্প খুলেছে। তারা আবারও একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু সেটা তারা করতে পারবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুস সালাম, আবদুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-
মেয়র পদে ১০ জনের নাম কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে খুলনা আ. লীগ
মির্জা ফখরুল সুস্থ, দু’একদিনেই ফিরছেন স্বাভাবিক কার্যক্রমে







