বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ না পেয়ে কারাগার প্রাঙ্গণ থেকে ফিরে গেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। কারাগারের মূল ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে নেতাদেরকে আটকে রাখে। শনিবার (১৬ জুন) বেলা সোয়া ১২টার দিকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
এসময় পুলিশ বেষ্টনীর কাছে দাঁড়িয়ে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, ‘ আমাদের দেশনেত্রী এদেশের মানুষের হৃদয়ের মনি খালেদা জিয়াকে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ঈদের দিনে আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। তিনদিন আগে আমরা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলাম (আবেদনে চিঠির অনুলিপি দেখান)। নিয়ম আছে, ঈদের দিন বন্দির সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে এখানে আটকে রেখেছে। জেল গেটের কাছেও যেতে দিচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ কর্তৃপক্ষ আমাদের সেখানে যেতে দেয়নি। এটার তাদের কাজ নয়। পুলিশের দায়িত্ব ছিল আমাদেরকে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’
আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ আমরা অনেকবার জেল খেটেছি, অনেক বছর জেলে থেকেছি। দেখেছি ঈদের দিন আত্বীয়স্বজন, কাছের মানুষদের দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ থাকে, সুযোগ দেয়। এবার যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, এরকম অতীতে আর কখনও দেখিনি।’
এ বিষয়ে পুলিশের পেট্রোল ইন্সপেক্টর আল মামুন ভূইয়া বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘আমাদের কাছে বিএনপি নেতাদের অনুমতিপত্র আসেনি, এ জন্য তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারবো না।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারসহ অনেকে।
এদিকে বেলা ২ টার দিকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের দেখা করার কথা রয়েছে।








