আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য খালেদা জিয়ার মামলার কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কারাগারে পরিচালনা করার জন্য সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটা সংবিধানবিরোধী ও সংবিধানের লঙ্ঘন।’ মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএনপি চেয়াপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কিছুক্ষণ আগে জেনেছি, সরকার একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জানি করেছে। প্রজ্ঞাপনে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নামে থাকা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা যা আগে আলিয়া মাদ্রাসায় বিশেষ আদালতে চলছিল। এখন আবার সেটাকে ট্রান্সফার করে নিয়ে আসা হচ্ছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই মামলার কার্যক্রম আগামীকাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ৩৫/ ৩ ধারা অনুযায়ী যেকোনও ফৌজদারি মামলা কার্যক্রম প্রকাশ্যে পরিচালিত হতে হবে। এটাকে ক্যামেরা ট্রাইল করার কোনও সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় কারাগারে ভেতরে মামলা পরিচালনার সরকারি সিদ্ধান্ত সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অন্যায় ও বেআইনিভাবে উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার মানলাম জামিন হওয়ার পরও সরকার বিভিন্ন কারসাজি মাধ্যমে তাকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশবিরোধী সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে অন্যয়ভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করতে কেন্দ্রীয় কারগারে মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আসন্ন নির্বাচনে প্রভাবিত করতে এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও মনে করছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বসহ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যক্রম আমরা পরবর্তী সময়ে জানাবো। পরে কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘একটা দেশ চলে তার মৌলিক আইনের ওপরে, সেটা হলো সংবিধান। সংবিধানের বাইরে কোনও আইন নেই। ১৯৭২ সালের দেশের মূল সংবিধান থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যতবারই সংশোধন করা হয়েছে, ৩৫ ধারা কোনোদিন সংশোধন হয়নি। এই ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, এই ধরনের মামলার বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। কারাগারের অভ্যন্তরে বিচার হওয়ার মানে হলো এটা ক্যামেরা ট্রায়াল। এটা সংবিধান সম্মত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিআরবিসি তো প্রায় দেড়শ দুই শ বছর আগের। সেখানে দেখবেন ৩৫২ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, এই ধরনের বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। এটা সংবিধান পরিপন্থী। এটা আমরা পর্যালোচনা করে দেখবো। এ ব্যাপারে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা, সেটা ভেবে দেখবো।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।








