বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারও সাহায্য ছাড়া নড়ানড়া করতে পারেন না বলে দাবি করেছেন দলটির সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, আপনি নিজে একবার হাসপাতালে আসুন। দেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে আপনি দেখে যান।’ বুধবার (২ অক্টোবর) বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এ খালেদা জিয়াকে দেখে আসার পর তিনি এ আহ্বান জানান।
এর আগে, তিনটায় বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংসদ সদস্য জিএম সিরাজ, জাহিদুর রহমান, মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সময় কাটান তারা।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত, আপনি যদি খালেদা জিয়াকে দেখেন, তাহলে আপনার মানবিক বোধ জাগ্রত হবে। আপনার মায়া হবে।’
জিএম সিরাজ বলেন, ‘আজ ১৮ মাস হলো খালেদা জিয়া একটি সাজানো মামলায় বন্দি। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ইতোমধ্যে নেতারা দেশবাসীকে জানিয়েছেন। অত্যন্ত অমানবিকভাবে আজকে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তার শরীর অবশ হয়ে গেছে। হাত-পা নাড়াতে পারেন না। নিজে চুল আঁচড়াতে পারেন না। বাথরুমে যেতে পারেন না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি খালেদ জিয়া রাজনৈতিক বন্দি। তাই তার জামিনের জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। প্রধানমন্ত্রী আমলাতান্ত্রিক পরামর্শ না নিয়ে রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় তার জামিনের ব্যবস্থা করে দিন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া তার মুক্তি হবে না। আমরা সংসদ সদস্য হিসেবে আপনার কাছে অনুরোধ, খালেদার জিয়ার মুক্তির পদক্ষেপ নিন।’
খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জিএম সিরাজ বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যাপারে খালেদা জিয়ার বক্তব্য হলো, তিনি তো বাংলাদেশেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসাই পাচ্ছেন না। প্রয়োজন হলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবেন। সেটা তো আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার।’
বিদেশে যাওয়ার আগ্রহের কথা খালেদা জিয়া আপনাদের বলেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজ বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। খালেদা জিয়া বলেছেন, তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি দেশে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়া কথা বলেছেন। ইউনাইটে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কথা বলেছেন। সেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগওতাকে দেওয়া হয়নি।’
এই সময় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তার ডায়াবেটিস খালি পেটেও ১১ থেকে ১২-এর নিচে নামছে না। তিনি মাত্র দুই বেলা খেতে পারেন। তাও সামান্য। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে, হাত নাড়াতে পারছেন না। কারও সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে চলতে পারছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে এখানে সে রকম কোনও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।’ বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।
খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি সরাসরি প্যারোলের বিষয়ে তাকে বলেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছেন, জামিন তার হক। দেশের আইন অনুযায়ী তিনি এখনই জামিন লাভের যোগ্য। কোনও রকমের কোনও অপরাধ তিনি করেননি। সুতরাং এখানে প্যারোলের প্রশ্ন কেন আসবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির কোনও প্রশ্নই আমাদের তরফ থেকে তোলা হয়নি। আমি ব্যারিস্টার রফিকুল হকের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। আমার আইনের ওপর যে অভিজ্ঞতা, এই ধরনের মামলায় অ্যাডমিশনেই জামিন হয়ে যায়। সেখানে এরকম শারীরিক অবস্থায় ১৮ মাস ধরে তিনি কারাবন্দি। আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, তাকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’ তার এই শারীরিক অবস্থার জন্য সরকারকেই দায়ী করেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য।








