মঙ্গলবার গণতন্ত্র হত্যাদিবস উপলক্ষে সমাবেশ করে উৎফুল্ল ও আনন্দিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজধানীর নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে লাখ লাখ মানুষের জমায়েত দেখে দলের কয়েকজন নেতার কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি গতকাল সোমবার সিনিয়র নেতাদের ডেকে নিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সুষ্ঠুভাবে সময়মতো সমাবেশ সম্পন্ন করার নির্দেশনা পালিত হওয়ায় আনন্দিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব বিষয় জানা গেছে।
এদিকে প্রশাসনের দেওয়া নিয়ম মেনে সমাবেশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় সন্তুষ্ট বিএনপি। যদিও এ কারণে খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন বক্তা সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করেছেন। খালেদা জিয়া বলেছেন- আওয়ামী লীগ বিএনপির যেকোনও সমাবেশকে ভয় পায়। এজন্যই সমাবেশের স্থান, মাইক, মঞ্চ নিয়ে নিয়ম বেঁধে দেয়। ভাইস-চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শর্তযুক্ত সমাবেশ গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।
সমাবেশে আগত নেতাকর্মীরাও দীর্ঘ এক বছর পর প্রকাশ্যে জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পেয়ে ‘মুক্ত’ মনে করছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাবেশে অংশ নিয়ে উৎফুল্ল তারা। এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই আগামী দিনে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গুলশান কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সোমবার ম্যাডাম মঙ্গলবারের সমাবেশ সফল করতে ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। একইসঙ্গে মাত্র এক দিনের নোটিশে এত লোকের সমাগম দেখে তিনি নিজেও উজ্জীবিত হয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সমাবেশের সঞ্চালক শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর সরকার বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। এটা গণতন্ত্রের দাবি। মাত্র এক দিনের নোটিশে জনগণ যেভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়েছেন, এতে করে পরিষ্কার যে- তার নেতৃত্বে আবার গণতন্ত্র উদ্ধারের সংগ্রামে সারা দেশবাসী অংশ নেবে।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে এত লোক সমাগম অদ্ভূত। আমরা তো ম্যাডামের নির্দেশ পালনের চেষ্টা করেছি। তবে তিনি সন্তুষ্ট কিনা এটি জানতে পারিনি। তবে তিনি সোমবার যা নির্দেশ দিয়েছেন নেতাকর্মীরা তা মান্য করেছে বলে জানান হারুন আল রশিদ।
/এসটিএস/এএইচ/








