রাজনীতির ইতিহাসে মওদুদ আহমদ চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘মওদুদ আহমদ আজীবন অর্থাৎ ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বড় জিনিসটা আমার কাছে মনে হয়েছে যে, জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করেছেন তিনি।’
রবিবার (২৫ এপ্রিল) এক ভার্চুয়াল স্মরণ সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্মরণে বিএনপির উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রয়াত এই নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরেন এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
ফখরুল বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে, রাজনীতিবিদ হিসেবে এবং সর্বোপরি একজন লেখক এবং গবেষক হিসেবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অবশ্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। উনি জীবিত থাকবেন তার এলাকার মানুষের কাছে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে, বিএনপির কাছে, আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে, সংগ্রাম ও আন্দোলনের ইতিহাসে।’
মওদুদ আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে বলতে কী অত্যন্ত পরিশীলিত ভাষায় পরিমিত বক্তব্য দেওয়া ছিল তার প্রধান গুণ। আমরা তার অতীত থেকে শুরু করে শেষ জীবন পর্যন্ত দেখেছি, তার যে সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা— এটা ছিল তার বড় রকমের একটা গুণ।’
তিনি যোগ করেন, ‘তার শেষ সময়টায় তার খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ হয়েছিল আমার। আমি তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ঋণী তার বিভিন্ন পরামর্শের জন্য। তিনি আমার কাছে একজন অভিভাবক ছিলেন।’
সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে মওদুদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে ফখরুল বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে যখন তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলেন, সেই সময়ে আমি ও ডা. জাহিদ (এজেডএম জাহিদ হোসেন) তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে তিনি তখন নাকের মধ্যে মাস্ক নিয়েই আমাকে বলেছিলেন— এবার স্ট্যাডিং কমিটির মিটিংয়ে আমি থাকতে পারবো না। ইনশাল্লাহ, পরের শনিবারে থাকবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পরের মিটিংয়ে আর উপস্থিত হতে পারেননি। সিঙ্গাপুর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। তিনি আর কোনও দিনই আমাদের সঙ্গে থাকবেন না। তিনি থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের অন্তরে।’
মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় আলোচনা সভায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবু হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দস কাজল এবং প্রয়াত নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ বক্তব্য রাখেন।









