বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে, নেতারা তোষামোদে ব্যস্ত থাকেন। তখন জেড ফোর্সের নামও শোনা যায় না।
বুধবার (৭ জুলাই) বিকালে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উপ-কমিটি ‘মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা কমিটি’ আয়োজিত ভার্চুয়াল সভায় এসব কথা বলেন জেড ফোর্সের অন্যতম সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘‘দুঃখের বিষয় আমরা যারা বিএনপি করি, আমরা নিজেরাই জানি না। সিলেটে কোথায় যুদ্ধ হয়েছে, আমি সিলেটের নেতাদের জিজ্ঞাসা করেছি, তারাও বলতে পারেনি। এই হলো বাস্তবতা। যখন আমরা ক্ষমতায় থাকি, তখন আমরা জীবিত নেতাদের তোষামোদে ব্যস্ত থাকি। যখন ক্ষমতায় থাকি তখন জেড ফোর্সের নামও শোনা যায় না। এখন কিছুটা শুনতে পারছি, সেজন্য দলের ‘স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি’কে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
রৌমারীকে সব সময় স্বাধীন রেখেছে জেড ফোর্স
আলোচনায় হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘জেড ফোর্স ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ব্রিগেড, কিন্তু এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেড। অন্য দুটি যে ব্রিগেড ছিল কে-ফোর্স এবং এস-ফোর্স, সেখানে দুটি করে পদাতিক ব্যাটালিয়ন ছিল। কিন্তু জেড ফোর্সে তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ছিল। এই জেড ফোর্স ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তিশালী একটি ব্রিগেড, যারা রণাঙ্গনে অনেক গৌরবদীপ্ত ভূমিকা রেখেছে। জেড ফোর্স স্বাধীনতা যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সাহসিকতার পদক অর্জন করেছে। আত্মদান ও শহীদের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি এই জেড ফোর্সে।’
তিনি বলেন, ‘রৌমারীকে সব সময় স্বাধীন রেখেছে জেড ফোর্স। এখানে বারবার আক্রমণ চালিয়েছে পাকিস্তান বাহিনী নৌপথে, কোদালকাঠিতে যুদ্ধে হয়েছে কয়েকবার। পরে তারা রণেভঙ্গ দেয়। এই রৌমারী সব সময় স্বাধীন ছিল।’
‘রৌমারীতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমি গিয়েছি, আমাদের অন্য কমান্ডাররা গিয়েছেন। সেখানে আমরা ডাক চালু করেছি, একটি সিভিল প্রশাসনও চালু করেছিলাম। এই রৌমারী ৯টি মাস মুক্ত রাখার কৃতিত্ব দাবি করতে পারে জেড ফোর্স’, উল্লেখ করেন হাফিজ উদ্দিন।
ময়মনসিংহ, জামালপুর, সিলেট অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর জেড ফোর্সের বিভিন্ন অভিযানের ঘটনা তুলে ধরেন হাফিজ। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম ও তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল এবং অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলের ব্যাটালিয়নকে নিয়ে ১৯৭১ সালের জুন মাসে নির্দেশ দেওয়া হয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম ব্রিগেড জেড ফোর্স গঠন করার জন্য। এই তিনটি ব্যাটালিয়নে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রিক্রুট ছাত্ররা রয়েছেন, যাদের কোনও সামরিক ট্রেনিং ছিল না।। তাদের ট্রেনিং দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হলো মেঘালয়ের তুরাগ থেকে ২০ মাইল উত্তরে তেলঢালা নামক জায়গায়। তেলঢালা ছিল একটি ঘন বনাঞ্চল উঁচু পাহাড়ে ঘেরা। এখানে জেড ফোর্সের গোড়াপত্তন করা হয়। জুলাই মাসের শেষ দিকে এসে যোগদান করেন জেড ফোর্সের কমান্ডার জিয়াউর রহমান। তিনি এসে দেখতে পান আমরা নতুনদের ট্রেনিং দিচ্ছি। তিনি এই ট্রেনিং তত্ত্বাবধান করেন।’
হাফিজ বলেন, ‘জেড ফোর্সের সমর নায়ক সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে চার জন বিএনপিতে ছিলেন। একজন কর্নেল আকবর হোসেন, তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। অন্য দুই জন কর্নেল অলি আহমেদ ও মেজর শমসের মবিন চৌধুরী। তারা অন্য দলে চলে গেছেন। একমাত্র আমিই কোনও রকমে অনেক অস্বস্তি নিয়ে এখনও টিকে আছি।”









