X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা: ‘স্লোমোশনে কঠোর’ হতে চায় বিএনপি

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ২১:১০

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে আট দিনের কর্মসূচি চলছে বিএনপির। এই কর্মসূচি শেষে বা পরিস্থিতির পরিবর্তনে সামনের দিনে প্রোগ্রাম দেওয়ার ক্ষেত্রে যেকোনও দিকে টার্ন দিতে পারে দলটি। ইতোমধ্যে ‘রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে’ খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে ‘জনমত সৃষ্টি’ হওয়ায় বিকল্প কোনও পথে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ‘রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বিদেশে যেতে পারেন খালেদা জিয়া’— এমন চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তারা বলছেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নটি অবান্তর। বরং সরকারই নিজ দায়িত্বে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে পাঠাতে বাধ্য হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও দলটির প্রভাবশালী দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, দলীয় প্রধানের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারকে অভিযুক্ত করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সমাবেশে খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জনিং’ করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলছেন, এই অভিযোগ কথার কোনও কৌশল নয়। এছাড়া খালেদা জিয়াকে জীবন থেকেই সরিয়ে ফেলার প্রশ্নটিও মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে উল্লেখ ছিল। 

সরকার দায়িত্ব নেবে

বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার অবস্থা নিয়ে বিএনপির স্টাডি তিন ধরনের। প্রথমটি তার রাজনৈতিক পরিচয় ও উচ্চতা। দ্বিতীয়টি তার অসুস্থতা এবং তৃতীয়টি তার বয়স। তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারণ করছে। কোনোটিকেই কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, বলে জানায় এই সূত্র। এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে দেশে খালেদা জিয়ার পক্ষে জনমত সৃষ্টি হয়েছে, বলে সূত্রের দাবি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা ও তার উন্নত চিকিৎসা নিয়ে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক জনমত সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাম থেকে শহরে এখন মানুষের মুখে একটিই কথা— কেন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে না। আমাদের আট দিনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসবে। আমরা রাজপথে নেমেছি, ফিরে যাবো না।’

বিএনপির প্রভাবশালী একজন দায়িত্বশীলের মন্তব্য, খালেদা জিয়ার ইস্যুতে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে দলকে ফাঁদে পা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিএনপি এসব ফাঁদ উপেক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোসহ নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টিকে আমলে নেওয়া হয়েছে। আর তার শারীরিক অবস্থা একটা প্রমাণিত বিষয়। তিনি ভালো হলেও সরকার জানবে, খারাপ হলেও জানবে। সেক্ষেত্রে সরকারকেই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে হবে। ফলে খালেদা জিয়ার মতো উঁচুদরের রাজনীতিক নিয়ে সরকার ‘রাজনীতি’ করলে কার ক্ষতি? ফলে পুরো দায়িত্ব এখন সরকারের, বলে মনে করেন এই প্রভাবশালী দায়িত্বশীল।

গণঅনশনকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা

স্লোমোশনে কঠোর হবে বিএনপি 

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা এমন বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তাকে বিদেশে নিতে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গটিও সামনে এনেছেন। কোনও কোনও নেতা এও মন্তব্য করেছেন— ‘প্রধানমন্ত্রী যে প্রশাসনিক আদেশে, আইনি ক্ষমতাবলে তাকে (খালেদা) কারাগারের বাইরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে কিনা, তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হবে কিনা, তা ভাবতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে তারা পরিষ্কারভাবেই জানিয়েছেন— ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নটি অবান্তর। বরং খালেদা জিয়ার কোনও অঘটন হলে সরকারকেই এর দায় নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা। ২৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিবও সাংবাদিকদের জানান, এ ধরনের (ক্ষমা চাওয়া বিষয়) কোনও চিন্তা বিএনপির নেই।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা শিশুরাও জানে— রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়। কোন বেয়াক্কল বলে এসব কথা। আমরা আবেদন করলে তো আরও আগেই করতাম। এসব বেয়াক্কলি কথাবার্তা।’

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্ষমা একদিন তাদের চাইতে হবে। বিএনপির মহাসচিব গতকাল প্রশ্ন তুলেছেন, ম্যাডামকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে কিনা। এ প্রশ্ন কথার কথা নয়। ম্যাডাম পায়ে হেঁটে জেলে গিয়েছেন, হুইল চেয়ারে করে এসেছেন। তার লিভার, কিডনি সব আক্রান্ত। এটা বিগ কোয়েশ্চেন। পৃথিবীর জেলখানায় স্লো পয়জনিং হয়।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা দাবি করেন, মাঠে নেতাকর্মীদের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসাকে কেন্দ্র করে শক্ত অবস্থান নেওয়ার দাবি উঠেছে। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্ব এখনই কর্মসূচি কঠোর করার বিপক্ষে।

স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, মাঠে মহাসচিবের কাছে প্রতিদিন হরতাল দাবি করছেন নেতাকর্মীরা। আমরা প্রি-ম্যাচিউর কর্মসূচি দিতে চাচ্ছি না। আমরা চাই, কর্মীরা কতখানি আন্তরিক, তা পর্যবেক্ষণ করতে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঐক্যকে রাজপথে সক্রিয় করা হবে। তবে তা হিসাব কষে।

শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও ’৯০ এর আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে কর্মসূচি কীভাবে শক্ত হয়,তার ব্যাখ্যা করেন। তিনি সেখানে জানান, কঠোর কর্মসূচি বলে কিছু নেই। কর্মসূচি কঠোর করতে হয়। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মানবিক আবেদনের চ্যাপ্টার ক্লোজ করা দরকার।’ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পরপর দুটো সমাবেশে মির্জা ফখরুলও নেতাকর্মীদের হঠকারিতা না করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

‘স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে কর্মসূচি নিয়ে হঠকারিতা না করার বিষয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে’ বলে জানান আরেক সদস্য। তিনি বলেন, সিনিয়র নেতারা রাজপথে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।  খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতাজনিত কোনও দুর্ঘটনা হলে যেকোনও পরিস্থিতিতেই শক্ত অবস্থান নেবে বিএনপি এবং এতে নেতারাই সামনের কাতারে থাকবেন। তার ভাষ্য— ঘটনা যেদিকে আগাচ্ছে এবং সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রকাশ্যে যে অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে— সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা ‘মেন্টালি ফাইট’ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘দেশের মানুষের অধিকার আদায়, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে খালেদা জিয়া আজ  মৃত্যুর পথে। তার মতো সাচ্চা জাতীয়তাবাদী নেতা, যিনি দেশের এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও সম্মতি দেননি কখনও, তিনি মরে যাবেন, আমরা বসে থাকবো, এমনটা নিশ্চয়ই হবে না।’

/এপিএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
মোবাইল ফোন-ল্যাপটপসহ প্রযুক্তিপণ্যের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ
মোবাইল ফোন-ল্যাপটপসহ প্রযুক্তিপণ্যের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ
১‌‌২ ঘণ্টা বন্ধের পর ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ট্রেন চলাচল শুরু
১‌‌২ ঘণ্টা বন্ধের পর ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ট্রেন চলাচল শুরু
ডনবাস আবারও ইউক্রেনের হবে: জেলেনস্কি
ডনবাস আবারও ইউক্রেনের হবে: জেলেনস্কি
দুপুরে শহীদ মিনারে গাফফার চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা
দুপুরে শহীদ মিনারে গাফফার চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত