বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের একমাত্র বিকল্প বিএনপি। বিএনপি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। বিএনপি তিন বার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে।
শনিবার (২৩ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে ওভারসিজ করসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওকাব) এর ‘মিট দ্যা ওকাব’ অনুষ্ঠানে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে দলীয় লক্ষ্য তুলে ধরতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব একথা জানান।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি গেলে তার নেতা কে হবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের নেতৃত্ব তো নির্ধারিত হয়ে আছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই আমাদের নেত্রী। তার অবর্তমানে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের নেতা। এখানে কোনও অস্পষ্টতা নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে- ১৯৯০ সালেও যে আন্দোলন হয়েছিলো -৫ দল, ৭ দল ও ৮ দল। সেখানে কিন্তু যুগপৎ আন্দোলন হয়েছিলে। বলতে পারেন সেই মডেলে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। সবাই যার যার অবস্থান থেকে তারা আন্দোলন শুরু করবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আন্দোলনের ধারাই নিয়ে তারপরে কোনদিকে আন্দোলন যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের প্রশ্নে আমরা ২০১৪ সাল থেকে আন্দোলন করছি। আমরা সেই আন্দোলনেই আছি। আমরা যখন জনগনকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামবো, আন্দোলনই বলে দেবে আন্দোলনের ধারা কোন পথে যাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিস্কার করে বলেছি, আমরা নির্বাচনে তখনই যাবো যদি একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন নেই।
দাবি না মানলে সংলাপও নয়
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্দলীয় সরকারের রূপরেখার প্রশ্ন তখনই আসবে যখন সরকার আমাদের সঙ্গে নিরপেক্ষ সরকারের গঠনের বিষয়ে একমত হবে। তার আগে না। সরকার যদি বলে যে, নির্বাচনকালীন সরকার, নিরপেক্ষ সরকার, সহায়ক সরকার গঠন করা হবে-আমরা একমত তখন কিভাবে হবে সেটা নিয়ে আমরা চিন্তা করে দেখবো।
তাহলে আলোচনা সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আলোচনার পথ কোথায়? সরকার যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে কথা বলতে চায় তখন আমরা সেটা দেখবো। তার আগে না। আগে তাদের (সরকার) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে একমত হতে হবে।
জেলে খাটা নেতা-কর্মীদের সংখ্যা ৩০ লাখ
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের জেলখাটা নেতা-কর্মীদের সংখ্যা ৩০ লাখের কম নয়। যখনই মামলা হয়েছে সবাইকে জেলে যেতে হয়। জেলে গিয়ে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসতে হয়। গত পরশু আমার বিরুদ্ধে আরেকটা মামলা হয়েছে অর্থাত আমার ৮৬টা মামলার সাথে আরেকটা যুক্ত হয়েছে। এই হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা।
গণতান্ত্রিক দেশগুলোর কাছে বিএনপির প্রত্যাশা
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সকল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর কাছে একটাই প্রত্যাশা করি যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য সবাই যার যার জায়গা থেকে তারা তাদের ভুমিকা রাখবে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা
মির্জা ফখরুল বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিন মধ্যেই আমরা স্টেটমেন্ট দিয়েছি।আমরা মনে করি যে, সব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার তার অধিকার আছে।ইউক্রেন একটা স্বাধীন দেশ। সেখানে কোনও ফরেন ইনভেশন আমরা কখনোই সমর্থন করিনি, আমরা করবো না। আমরা প্রত্যেকটি দেশ যাতে স্বাধীনভাবে থাকতে পারে সেটাতে বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার মিল কোথায়
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা কয়েকটি বিষয় মিল দেখতে পারছি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। যার প্রভাব ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পড়েছে। গ্যাসের দাম বেড়েছে। আমরা পুরোপুরি আমদানি নির্ভর। এই সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় আছে তারা নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের পদক্ষেপ নেয়নি। আমদানি করা গ্যাসের দাম বেড়ে যাচ্ছে, ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে এখন একটা বড় রকমের ক্রাইসিস শুরু হয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বৈদেশিক মজুত নিচের দিকে যাচ্ছে। রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে। সরকার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারের কথা বলে। যদিও এর মধ্যে সাড়ে ৭ বিলিয়ন এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের নামে তারা এদেশের যারা রফতানি করে তাদের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দিয়েছে। এই টাকা ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই। রফতানি কমে আসছে, উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। ফলে ওই ক্রাইসিসগুলো এখনে গভীর হচ্ছে। সেজন্য আমরা আশঙ্কা করছি যে এখানে শ্রীলঙ্কার মতো একটা অবস্থা তৈরি হতে পারে।
বিএনপির দাবি: সরকার পদত্যাগ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সাজেশন একটাই- রিজাইন অ্যান্ড গিভ ইলেকশন। নির্বাচন দাও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সেই নির্বাচিত সরকারই সমস্যার সমাধান করতে পারে।









