বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘আমরা প্রতারণায় বিশ্বাস করি না। আজ সরকার মুখে যেটা বলে, সেটা করে না। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে আর কাজে করে বাকশাল। এভাবে প্রতারণার শিক্ষা আমরা মানুষকে দেবো না।’
শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা: সংকট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভার আয়োজন করে নাগরিক ফোরাম।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আমাদের আদর্শলিপিতে একটা কথা লেখা ছিল, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’। আজ এই দেশ কেন ধ্বংসের পথে যাচ্ছে? আজ এই দেশের মানুষ ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষমতার লোভে তারা পাপ করছে। সে পাপে আমরা মৃত্যুর দিকে যাচ্ছি। আমরা সঠিক পথে যাবো, গণতন্ত্রের পথে যাবো, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবো, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করবো। আমরা প্রতারণায় বিশ্বাস করি না। আজ সরকার যেটা বলে, সেটা করে না। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, আর কাজে করে বাকশাল। এভাবে প্রতারণার শিক্ষা আমরা আমাদের মানুষকে দেবো না।’
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শক্তিশালী দেশ হয়েছে কীভাবে মন্তব্য করে মঈন খান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হয়েছে একটি কারণে। তা হলো বিশ্বের সবচেয়ে নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ১০০টির মধ্যে সম্ভবত ৫০ থেকে ৭৫টি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে। আর তালিকার ১ হাজারের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পাওয়া যাবে না। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। যদি শিক্ষায় আমরা পিছিয়ে পড়ি অথবা শিক্ষার নামে অশিক্ষা-কুশিক্ষা অনুসরণ করি, তাহলে বাংলাদেশের পরিণতি কী হবে? এটা কি তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য যে অশিক্ষা-কুশিক্ষা দিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দেবে?’
স্থায়ী কমিটির সদস্য আরও বলেন, ‘প্রতিটি দেশের একটি নিজস্ব স্বকীয় চিন্তাধারার, মানসিকতা, ধর্ম, মানবিক আচরণ, কৃষ্টি, সংস্কৃতি থাকে। যদি তার পরিপন্থি কিছু সে দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা কোনও দিন ভালো করতে পারে না। আমরা শুনেছি এই সরকারের এক মন্ত্রী নিজেই এই পাঠ্যক্রমকে সমালোচনা করেছেন এবং তিনি নিজেই বলেছেন, এই দেশের শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে।’
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় বাতলে দিয়ে বিএনপির সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরণের উপায় আমি বলে দিচ্ছি—মুক্তচিন্তা, সৎ চিন্তা ও বাস্তব চিন্তা। শিক্ষাব্যবস্থায় এ তিনটি অধিকার নিশ্চিত করুন। কী বই লেখা হবে, কীভাবে পরীক্ষা হবে, এসব নিয়ে ভাবার দরকার নেই। আমার চিন্তাশক্তি যদি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মস্তিষ্কে সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে সেই নাগরিকের সব সমস্যার সমাধান নিজেই করতে পারবে। আমি শিক্ষাকে এভাবেই দেখি।’
নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহিল মাসুদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. পারভেজ হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ কামরুল আহসান, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) চেয়ারম্যান ড. আনম এহছানুল হক মিলন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাগরিক ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ নুরুজ্জামান প্রমুখ।









