বিএনপি আইসিইউতে যাবে না, আপনারা ইতোমধ্যে আইসিইউতে চলে গেছেন। আপনারা ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে তাঁতি দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে সরাতে হবে। তারা নির্বাচন করতে চায়, বাহ কী নির্বাচন। আবার বলে বিএনপি নাকি আইসিইউতে যাবে। বিএনপি আইসিইউতে যাবে না, আপনারা ইতোমধ্যে আইসিইউতে চলে গেছেন। আপনারা ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছেন। তা না হলে নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন? নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন? ভয় একটাই, কারণ আপনারা জানেন যে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আপনাদের জামানত থাকবে না। ৩০টা আসনও আপনারা পাবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন সংগ্রামে আছি, আন্দোলনে আছি। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে নিয়ে সরকার বিভিন্নভাবে নাটক শুরু করেছে। তাদের (সরকার) মন্ত্রীদের একদল বলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না। আরেক দল বলেন, তার (খালেদা জিয়া) রাজনীতি করতে বাধা নেই। হঠাৎ করে আপনাদের (সরকার) এত দরদ উতলে উঠলো কেন? আপনারা খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার ব্যাপারে একেবারে পাগল হয়ে গেলেন। আপনাদের উদ্দেশ্য একেবারেই ভালো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যখন রাজনীতি করার সময় আসবে, উনি রাজনীতি করবেন। তিনি কারাগারে থাকুক আর যেখানেই থাকুক, তিনি অবশ্যই রাজনীতি করবেন। কারণ, খালেদা জিয়া এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় মাতা। আপনাদের (সরকার) এসব কথা বলার কোনও প্রয়োজন নেই। তার সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন, দল নেবে।’
সরকার দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা দেশের মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে চায়। আমাদের (বিএনপি) দৃষ্টি এখন একটাই, আমরা আমাদের অধিকার ফেরত চাই। আমাদের ভোটের অধিকার ফেরত চাই। এই সরকারকে আমরা আর দেখতে চাই না। এই সরকারকে এই মুহূর্তেই পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। জনগণকে বিভ্রান্ত করে আর ভিন্ন পথে পাঠানো যাবে না।’
সরকার নির্যাতন করে টিকে আছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্যাতন আমাদের ওপর হবে, এটা আমরা জানি। কারণ, আমরা সত্যের পথে আছি, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছি, মানুষের কথা বলছি। সুতরাং, নির্যাতনের কথা বলে লাভ নেই। নির্যাতন তারা (সরকার) করবে। নির্যাতন করে তারা (সরকার) টিকে আছে। এজন্য তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। এটাই হচ্ছে আমাদের প্রধান কাজ।’
ফখরুল আরও বলেন, ‘আমাদের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, তাঁতি, কুমার এরা খুব কষ্টে আছে। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেড়েছে। শহরগুলোতে বাড়ি ভাড়া বাড়ায় সবাই গ্রামে চলে যাচ্ছে। দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ ফখরুল বলেন, ‘আমাদের অনেক সময় চলে গেছে, আমরা বহু মার খেয়েছি। আজকে মার খেতে খেতে আমরা উঠে দাঁড়িয়েছি। দেশের মানুষ উঠে দাঁড়িয়েছে। এখন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে—এই মানুষগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমে আসা এবং রাজপথে নেমে এসে তাদের পরাজিত করা। আসুন, আমরা আন্দোলন আরও তীব্র করে তুলি, আরও বেগবান করে তুলি এবং জনগণের শক্তি দিয়ে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি করে এদের পরাজিত করি।’
জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হাজী মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা নেছারুল হক, সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনির প্রমুখ।








