মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকেও দলীয়করণ করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকারপ্রধানের ইচ্ছায় মানুষকে কারাগারে বন্দি রাখা হচ্ছে। বিচার বিভাগ অবৈধ সরকারের নির্দেশে ফরমায়েশি রায় প্রদান করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মামলা-হামলায় কারাগারে প্রেরণ ও সাজা প্রদান করছে।’
মঙ্গলবার (৯ মে) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘এই অবৈধ সরকার সারা দেশে বিএনপিসহ বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের নামে ১ লাখ ১১ হাজারেও বেশি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার। তার মধ্যে বিরোধী মত ও মুক্তমত প্রকাশের জন্য বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২ হাজার ৮৩০ মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সাজা দিয়ে রাজনীতির মাঠ থেকে বিতাড়িত লক্ষ্যে বিগত দিনের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা নতুন করে শুরু করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিএনপিসহ বিরোধী মতের দলগুলো এবং দেশবাসী যখন এই সরকারের অধীনে নির্বাচন না করা এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, ঠিক সে সময় অবৈধ সরকারের মন্ত্রী এবং শাসকগোষ্ঠীর নেতারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যাচার ও অলীক কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনই নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না এবং জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। সংসদ ভেঙে দিয়ে এই অবৈধ সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।’
উচ্চ আদালতের জামিন থাকার পরেও জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, খুলনা জেলা বিএনপি’র আহহ্বায়ক আমির এজাজ খান, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মীকে নিম্ন আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন; যা জনগণ আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে মনে করেন বলে উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী, যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, নাটর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, বিএনপি নেতা মিয়া নূরুদ্দিন অপু, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন, ঢাকা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে দীর্ঘ দিন যাবৎ বন্দি করে রেখেছে।’
‘এছাড়াও যুবদলের সহ-সভাপতি ইউসুফ বিন কালু, সাবেক সহ-সভাপতি আলী আকবর চুন্নু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি রফিক হাওলাদার, সাবেক কমিশনার হারুন অর রশিদসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে সাবেক বিচারপতি আওয়ামী নেতা শামসুদ্দিন মনিকের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় মাসের পর মাস কারাগারে আটক রেখেছে। বারবার জামিন চেয়ে আবেদন করলেও এই মামলায় তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না, যা আইনের সুস্পষ্ট লংঘন’ বলেও উল্লেখ করেন ফখরুল।
সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘ফরমায়েশি রায়’ দিয়ে ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে’ বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আবারও নতুন করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জোবাইদা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মিথ্যা মামলা দিয়ে চার্জ গঠন করে সাজা দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, লুৎফর জামান বাবর, কাজী সলিমুল হক কামালসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।’









