আওয়ামী লীগ হিংসাকেই পরম ধর্ম মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘হিংসাকে পরম ধর্ম মনে করে আওয়ামী লীগ। এরা হত্যা আর রক্তের উৎসরণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের স্বাধীনতাকে সমাধিস্থ করে ফেলেছে।’
এ সরকারের আমলে চারিদিকে শকুন আর হায়েনার জয়জয়কার মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘এখন কোথাও কোনও নিরাপত্তা নেই। হয় ধরা পড়বে, নয়তো মরে যাবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, শাসকদলের অনুগ্রহের ছায়াতলেই এদেশের মানুষকে বাঁচতে হবে।’
শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বারবার পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খালেদা জিয়া উপস্থিত হয়েছিলেন। তার সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করতে পুলিশ ও র্যাব প্রধানের কাছে দলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গুলশানের বাসভবন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়া পর্যন্ত পুলিশ বারবার তাকে বাধা দেয়। গুলশানে তার বাসভবনের সামনেই পুলিশ ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সব বাধা অতিক্রম করে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাছাকাছি এলে পুলিশ দুই জায়গায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অপেক্ষায় থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই ঘটনায় ৫০ জনের অধিক বিএনপি নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়।’
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় একুশের রাতে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত আক্রমন চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নমিনেশন পেপার কেনা ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীরা প্রবলভাবে বাধা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সাইফুল্লাহকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র কেড়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে স্থানীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশ বাধা দিয়েছে।
/সিএ/এজে/








