ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় সংলাপের সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে এখনই কোনও কথা বলতে পারবো না। সেই ধরনের কোনও আলোচনা আজকে হয়নি।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রেসক্রিপশনের তো প্রশ্নই উঠতে পারে না, কীসের প্রেসক্রিপশন?’
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির সঙ্গে একঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিকাল ৩টায় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার বৈঠক শুরু হয়।
‘রাজনীতিতে বারবার একটা কথা আলোচনা আসছে যে নির্বাচনকালীন প্রেসক্রিপশন… সেখানটায় ওনাদের (ইইউ) কোনও পরামর্শ আছে কিনা’—প্রশ্ন করলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রেসক্রিপশনের তো প্রশ্নই উঠতে পারে না, কীসের প্রেসক্রিপশন? এখানে নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠুভাবে। এখানে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ছাড়া। বর্তমানে আওয়ামী লীগ যে অবস্থাটা তৈরি করেছে, এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে গত দুইটা নির্বাচনে যে নির্দলীয় সরকার ছাড়া এখানে নির্বাচন সম্ভব না। প্রেসক্রিপশনের প্রশ্ন না—এখানে সংবিধানে আছে ভোটাররা ভোট দেবে, ভোট দিয়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে সরকার গঠন হবে।’
একঘণ্টা বৈঠকের পর রাষ্ট্রদূতকে বিদায় দিয়ে কার্যালয়ের গেটের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় জানেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে দেশে একটা এক্সপার্ট টিম আসবে আগামী সপ্তাহে এবং সেই এক্সপার্ট টিমের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কথা হবে, আলোচনা হবে, সিভিল সোসাইটির কথা হবে। ওই টিমের অ্যাডভান্সার আলোচনার ব্যাপারেই আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা যেটা আঁচ করছেন যে নির্বাচন… সেই ব্যাপারেই আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আমাদের কী চিন্তা, আমরা কী ভাবছি, আমরা কী করছি—এই বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে।’
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপির এমন অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বক্তব্য কী জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা যেটা সবসময় চাচ্ছেন, অনেকবারই বলেছেন যে তারা বাংলাদেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়—এটা একইভাবে তারা আজকে আরও পরিষ্কারভাবে এক্সপ্লোর করার জন্য… আগামীতে তাদের একটা টিম আসবে। বাংলাদেশে আসলেও কোনও সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার সুযোগ আছে কিনা, সেটা দেখার জন্যে তারা আসবেন এবং ওই টিমটার বিষয়ে আলোচনা করবার জন্যে এখানে যে দূতাবাস আছে, সেই দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর এসেছিলেন।’
‘আপনারা কী বলেছেন’- প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে যেটা বলেছি যে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি, এখানে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনও সরকারের অধীনে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আলোচনাটা হয়েছে যে বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি আছে কিনা, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব কী সম্ভব নয়, সেটাই তারা জানতে চেয়েছে।’









