‘এক দফা’র আন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সকল পেশার মানুষকে ‘রাস্তায় নেমে সোচ্চার হওয়া’র আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘যেকোনও জাতি যখন তার অধিকারের জন্য লড়াই করে, সংগ্রাম করে তখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হয়। সেখানে সকলে কনট্রিবিউট করতে হয়। আজকে শুধু বিএনপি লড়াই করবে বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো লড়াই করবে, অন্যান্যরা বসে থাকবে সেটা হয় না। আজকে সবাইকে নেমে আসতে হবে, সবাইকে রাজপথে নামতে হবে এবং তাদের ভয়েস যেটা.. সোচ্চার কণ্ঠে উচ্চারণ করতে হবে।’
সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বিএনপি আয়োজিত এক সেমিনারে দলটির মহাসচিব এই আহ্বান জানান। গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিএনপির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম: দুঃশাসনের দেড় দশক’ শীর্ষক এই সেমিনার হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ। সেমিনার উপলক্ষে গণমাধ্যমের ওপরে ‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে দুঃশাসনের দেড় দশক (২০০৯-২০২৩)’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে এখানে যারা এসেছেন সকলে সচেতন মানুষ। আপনারা জনমত তৈরি করুন। আজকে শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্ব আজ আপনাদের সঙ্গে এক হয়েছে।তারা পরিষ্কার করে বলছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই, তারা পরিষ্কার করে উচ্চারণ করছে এখানে নির্বাচন হয় না, এখানে মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সংসদ বিলুপ্ত করে একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারকে ক্ষমতা দিয়ে এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে আমাদেরকে নতুন পার্লামেন্ট ও নতুন সরকার দিয়ে জনগণের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে… এটাই হচ্ছে আমাদের কথা। আসুন এখন আর কালক্ষেপণ না করে অন্ধকারকে সরিয়ে সবাই সামনের দিকে এগিয়ে যাই— এই হোক আমাদের আজকের আলোচনার কথা।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদ গোটা দেশকে প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে। এই গ্রাস করার অন্যতম অস্ত্র হচ্ছে গণমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা। তারা যেভাবে অপকর্ম করে, যেভাবে মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নেয়, যেভাবে মানুষের ন্যূনতম সাংবিধানিক অধিকারগুলো কেড়ে নেয়— সেটাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার জন্য গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন হয়। সেটাই তারা ধীরে ধীরে সুকৌশলে করে আসছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে এসে আমাদের বলতে হচ্ছে যে, এখানে কোনও গণতন্ত্র নেই, আমাদেরকে বলতে হচ্ছে এখানে গণমাধ্যমের কোনও স্বাধীনতা নেই, এখানে এসে বলতে হচ্ছে যে, এতোগুলো যে মিডিয়া এই মিডিয়াগুলো আসলে চাইলেও কোনও কাজ করতে পারে না…।”
‘এখানে সুকৌশলে একটা করপোরেট মিডিয়া তৈরি করা হয়েছে যেখানে দেখবেন যে সমস্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো একেকটি পত্রিকার মালিক, একেকটি টিভি চ্যানেলের মালিক। এজন্য তারা তাদের যে ব্যবসা এবং একই সঙ্গে সরকারের যে সুবিধাগুলো ভোগ করে, ব্যাংকের সুবিধা ভোগ করে। যারা টাকা পাচার করে দিচ্ছে তাদেরকে রক্ষা করে। তাদেরকে রক্ষা করার জন্য আজকে গণমাধ্যমে করপোরেট কালচার তৈরি করেছে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন… খুব ইন্টারেস্টিংলি একটি গণমাধ্যম আরেকটি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে যখন খবর প্রচার করে তখন দেখবেন একজন ব্যবসায়ী আরেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রচার করছে। সবই কিন্তু এই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
গণমাধ্যমের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের (একাংশ) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বর্তমান সভাপতি এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ ও যুগান্তরের সহকারী সম্পাদক মাহবুব কামাল।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সঞ্চালনায় সেমিনারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণঅধিকার পরিষদের (একাংশ) সভাপতি নুরুল হক নূর, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ আখন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক এটিএম নুরুল আমিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ডেনমার্কসহ ৭টি দেশের কূটনীতিকরা এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।









