শিগগিরই আ.লীগের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে: বিএনপির স্থায়ী কমিটি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:৫৯আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:৫৯

দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে না দিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। সোমবার (১ জানুয়ারি) দলের পক্ষ থেকে সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচিত ও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত বিষয়গুলো নিয়ে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন দলকে ভবিষ্যতের জন্য চরম মূল্য দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ক্ষমতাসীন দলের বোধোদয়, ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের অবস্থানগুলো নিয়ে তুলনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। এতে উঠে আসে গত ২৮ অক্টোবর পণ্ড হওয়া মহাসমাবেশের আগে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যও।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি ‘বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে ও বিএনপির বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্থায়ী কমিটি। কমিটির ভাষ্য, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি’র রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে— এমন সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রে জাতি স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ।’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটি উল্লেখ করেছে যে, ‘গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ থেকে বিদেশে জনশক্তি রফতানি, বহুমুখী কর্মসংস্থান থেকে কৃষি বিপ্লব, শিক্ষার প্রসার থেকে নারীর ক্ষমতায়ন বাংলাদেশকে একটি সুদৃঢ় অর্থৈনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি এনে দিয়েছে বিএনপি, যাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।’

আহ্বান জানিয়ে স্থায়ী কমিটি বলেছে, ‘ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ আওয়ামী লীগের অনুধাবন করা উচিত যে, রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে রাখার মোহে, আপাতদৃষ্টিতে চরমপন্থী চিন্তায় তারা নিজেদের বিজয়ী ভাবলেও দীর্ঘমেয়াদে এমন অপরিণামদর্শী ও একনায়কতান্ত্রিক রাজনীতির পরিনাম ভালো হবে না, হয় না কখনও। বিভাজিত রাজনীতির ধারাবাহিকতায়, সময়ের পালাবদলে, আওয়ামী লীগকেই একদিন এর চরম মূল্য দিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটি আহ্বান রেখেছে, ‘সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অবলম্বন করে, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি নিরঙ্কুশ ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলন পরিচালনা করছি। বিএনপি প্রত্যাশা করে, শিগগিরই আওয়ামী লীগের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা দেশকে সহিংসতার দিকে না ঠেলে, শান্তির দিকে নিয়ে আসবে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান গণআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, সব রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে যখন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন একদিকে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতি করবার অধিকার ফেরত পেয়েছিল। অপরদিকে শহীদ জিয়ার কৃপায় দেশে ফেরত এসে দলীয় রাজনীতির হাল ধরেছিলেন শেখ হাসিনা। শহীদ জিয়ার আনুকূল্য পেয়েছিলেন বলেই শেখ হাসিনা এই দেশের মাটিতে রাজনীতি করার ও রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আর তাই, দেশবাসী মনে করে, শহীদ জিয়া ও বিএনপির প্রতি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত।’

দলটির উল্লেখ করে, দুঃখজনকভাবে, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক জিঘাংসার মাধ্যমে, আওয়ামী লীগ বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করছে, যেন বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়। কিন্তু এত গুম, এত খুন, এত মামলা, এত অত্যাচার, এত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ফ্যাসিবাদের নজীরবিহীন নিষ্ঠুরতা নিষ্পেষণেও বিএনপিকে একবিন্দু দমানো সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগের মনে রাখতে হবে, বিএনপি নিছক একটি রাজনৈতিক দল নয়। বিএনপি পুরো বাংলাদেশজুড়ে বিস্তৃত একটি মহীরুহ সংগঠন, যার সমর্থন রয়েছে দেশের প্রতিটি মহল্লায়, সমাজের প্রতিটি স্তরে, রাষ্ট্রের প্রতিটি কাঠামোতে।

বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সা¤প্রতিক ঘটনাবলি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির ঐতিহ্য পর্যালোচনা করলে আমরা এসব বক্তব্যের পেছনে স্পষ্টতই একটি অপকৌশল দেখতে পাই। বিরোধী দল তথা বিএনপির ওপর দমন-নিপীড়নকে কাগজে-কলমে বৈধতা দিতে, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রথমে একটি আশংকাসূচক বক্তব্য দেন এবং তারপর তাদের আশঙ্কা মোতাবেক নিজেরাই তেমন সহিংসতা বাস্তবতায় পরিণত করেন। ক্ষমতাসীনদের প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইনের দায়িত্ব পালন করা কিছু চিহ্নিত মিডিয়া তাদের এই পরিকল্পিত অপকর্মের বয়ান প্রচারণায় লিপ্ত হয়।

‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গণতন্ত্রকামী লাখ লাখ জনতার অভূতপূর্ব সমাবেশ ঘটবে, তা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরে আওয়ামী লীগ সহিংসতার পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওবায়দুল কাদের আগাম হুমকি দেন যে, ঢাকায় মহাসমাবেশ করতে আসলে বিএনপির পরিণতি হবে হেফাজতের চেয়েও ভয়াবহ। এই বক্তব্যর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ একদিকে হেফাজতে ইসলামের ওপরে শাপলা চত্বরে হামলার দায়ভার পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেয়, অপরদিকে বিএনপির সমাবেশের ওপরে হামলার ষড়যন্ত্রমূলক প্রেক্ষাপট তৈরি করে।’ বলে মনে করে বিএনপি।

/এসটিএস/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সব দলকে তাদের কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই, মানুষ ঠিক করবে তারা কাকে চায়: মির্জা ফখরুল
প্রশিক্ষণে চীন যাচ্ছেন ছাত্রদল-যুবদল নেতাসহ তরুণ প্রতিনিধিরা
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম