দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও নতুন নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে বিএনপির দেওয়া ছয়দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন চলছে আজ বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি)। ভালোবাসা দিবসের সকাল থেকেই নেতারা ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ শীর্ষক লিফলেট হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছেন। এসময় জড়ো হওয়া নেতা-কর্মী, অনুসারীদের নানাভাবে উজ্জীবিত করতে দেখা যায় বিএনপি নেতাদের। সরকারের পতন পর্যন্ত রাজপথমুখী থাকার প্রস্তুতি নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
তবে দলের অনেক নেতাই মাঠে নামছেন না, এমনকি যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের অনেকেই গণমাধ্যমে বক্তব্য ও ফটোসেশনের পর খুব বেশি সময় লিফলেট কর্মসূচিতে থাকছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছাত্রদলের একাধিক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, লিফলেট প্রচারণা অনেকটাই সংক্ষিপ্ত পরিসরে করছেন নেতারা।
বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল দাবি করেন, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা যারা এখনও সক্রিয় ও জেলের বাইরে আছেন, তারা সহজেই লিফলেট বিতরণে অংশ নিতে পারেন। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতারা এসব কর্মসূচিতে বরাবর দূরে থেকেছেন।’
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ছয়দিনের কর্মসূচি দেয় বিএনপি। এসব কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় প্রচারণা চলছে বিএনপির। এদিন রাজধানীর নয়া পল্টনে প্রচারণায় গিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির নেতা সেলিমা রহমান বলেন, ‘জনগণের ভোট নয়, গুম খুন করে ক্ষমতায় টিকে আছে সরকার। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কারাগারে রেখে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন করেছে ক্ষমতাসীনরা। এ নির্বাচন দেশের মানুষ মানে না। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
কর্মী, অনুসারীদের উদ্দেশে সেলিমা রহমান বলেন, ‘আপনারা যেভাবে আপনাদের শক্তি দেখিয়েছেন, রাজপথে আমাদের আরও চলতে হবে। এই এক দফা শেখ হাসিনার পতন, সে পর্যন্ত আসুন আমরা একযোগে করি সেই প্রতিবাদ, সেই সংগ্রাম করি।’ বক্তব্যের পর তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেন। রিকশাচালক, পথচারী ও বিভিন্ন দোকানের সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।
এদিকে আজ সকাল থেকে রাজধানীর রূপনগরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আর ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে তাদের একদফা আন্দোলন চলমান আছে। চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। মাঠে নির্যাতিত জনগণের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সম্মিলিত আন্দোলনে এ সরকারের পতন অবশ্যই ঘটবে। সেদিন বেশি দূরে নয়। বিজয় আসবে।’
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ‘সরকারের পদত্যাগ ও নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভারত-বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে’ চলমান ছয় দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনেও প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। রাজধানীতে লিফলেট বিতরণ করেছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী; যুবদল; কৃষক দল; ওলামা দল; ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার দলটির কোনও কর্মসূচি নেই। পরদিন (১৬ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার প্রতিবাদ ও তাদের স্মরণে মসজিদে দোয়া মাহফিল করবে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি সব জেলা সদরে লিফলেট বিতরণ ও ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি সব উপজেলা এবং ইউনিয়নে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করবে দলটির নেতাকর্মী ও অনুসারীরা।









