বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘যারা বাংলাদেশে বিভেদ-বিদ্বেষ সৃষ্টি করছেন আমি তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলবো না। তাদের কাছে আবেদন করবো, আপনারা বাংলাদেশকে ভালোবাসতে শিখুন। আপনারা দেশের ১৮ কোটি মানুষকে ভালোবাসতে শিখুন। সেটি যদি হয়, আমি মনে করি বাংলাদেশে আর কোনও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে না।’
বুধবার (১৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ, সব মানুষ একইভাবে চিন্তা করবে—বিষয়টা এমন নয়। মানুষ ভিন্নভাবে চিন্তা করবে এবং সেটাই গণতন্ত্রের মূল কথা। আমি এখানে বলতে আসিনি যে সবাই বিএনপির আদর্শে বিশ্বাস করবেন। আমি বলতে এসেছি, আপনারা সবাই বাংলাদেশের আদর্শে বিশ্বাস করেন। যদি আপনারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। আপনাদের ভিন্ন মত থাকবে, আমাদের ভিন্ন মত থাকবে। আমরা আলোচনা করবো, ডিবেট করবো। তাহলে ডিবেটের মাধ্যমে যে ফাইনাল সিদ্ধান্ত সেটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত হবে। যদি আমরা এই শর্তে বিশ্বাস করি, তাহলে বাংলাদেশে কোনও সমস্যা থাকতে পারে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অনেকে কটু কথা বলে একজনের মত আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দেয়। এই পথ যারা অবলম্বন করেছেন, তারা এসব অন্যায্য ও অন্যায় থেকে বের হয়ে আসুন। আমরা সুষ্ঠু রাজনীতি ও নিয়মতান্ত্রিকতায় বিশ্বাসী। নিয়মতান্ত্রিকতার বাইরে আমরা কোনও দিন যাবো না। বাংলাদেশের ইমেজকে ধ্বংস যারা করছে, তাদের বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত করতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ফিরিয়ে আনি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের বিজয়কে শুধু এক জায়গায় কুক্ষিগত করে রাখলে হবে না। এটি ১৮ কোটি মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে। গত এক বছরে আমরা কী পরিবর্তন দেখেছি বা অর্জন করেছি, তা বিশ্লেষণ করা দরকার।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিবন্ধনের জন্য ৮০০ পাতা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েও ফেল করায় তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এতো পাতা জমা দিয়েও ফেল করেছেন, এখন মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মাথা খারাপ করেছে কিছু উগ্রবাদী দলেরও।
এনসিপি আর জামায়াতকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করবেন—তা হবে না উল্লেখ করে ফারুক বলেন, শুধুমাত্র কয়েকদিন সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের ঘরে ভাত খেয়েই বিএনপির বিরুদ্ধে নামবেন তা হবে না। নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতেই ষড়যন্ত্র চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যদি জামায়াতের কথায় যান তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়েও খারাপ অবস্থা হবে।









