সুইডেনে কোরআন শরিফ অবমাননার প্রতিবাদে পৃথকভাবে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। শুক্রবার (৭ জুলাই) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় জুমার নামাজের পর বেশ কয়েকটি দল বিক্ষোভ করে। এই বিক্ষোভে ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’র ব্যানারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। পাশাপাশি জামায়াতের পক্ষ থেকেও সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রথম বিক্ষোভ করে খেলাফত মজলিস। এরপর বিক্ষোভ মিছিল বের করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ঢাকা মহানগর শাখা (ইকরাম)। ইসলামী আন্দোলন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দুপুর আড়াইটার দিকে। দলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’র ব্যানারে বিক্ষোভ করেন জামায়াতের নেতারা। এতে আরও কয়েকটি সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য, মসজিদ মিশনের দায়িত্বশীল মুফতি ড. খলিলুর রহমান মাদানী ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’র সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য দেলওয়ার হোসেন, কামাল হোসাইন ও মাওলানা ড. আব্দুল মান্নান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলেসহ আরও অনেকে বিক্ষোভে অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আবু তাহের জিহাদী।
একাধিক ইসলামী দলের নেতারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’ নামে যে সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি ২০২০-এর আগে সক্রিয় ছিল। এরপর এই সংগঠন থেকে আর কোনও কর্মসূচি আসেনি। সম্প্রতি জামায়াত নেতা খলিলুর রহমান মাদানী এই নামে তৎপরতা শুরু করেছেন।
শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভের পর জনৈক অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবারের বিক্ষোভে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী উপস্থিত ছিলেন। যদিও দলের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি (মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী) তো পারিবারিক কাজে ব্যস্ত। আজ তিনি ছিলেন না।’
আরেকটি ইসলামি দলের কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’র পরিচয়ে যেসব সংগঠনের নাম সামনে আসছে, অধিকাংশ জামায়াতের লোকেরাই যুক্ত এসব সংগঠনে। মূলত অন্য ইসলামি দলগুলোকে যুক্ত করে তারা ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’ ব্যানারটিকে কাজে লাগাতে চাইছে।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদ, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ, জাতীয় ইমাম সমিতি, জাতীয় খতিব পরিষদ, আইম্মা পরিষদ, খেলাফতে রাব্বানী, নাস্তিক মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটি, ইসলামী জনতা বাংলাদেশ, ইসলামী সংগ্রাম পরিষদ, আহকামে শরিয়াহ হেফাজত কমিটি, জাতীয় সিরাত (সা.) কমিটি, কুরআন-সুন্নাহ পরিষদ, বাংলাদেশ কুরআন গবেষণা কেন্দ্র, খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ, তালিমুল কুরআন সংস্থা, উলামায়ে দেওবন্দ পরিষদ, প্রগতিশীল ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ ভাসানী ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ইমাম সমিতি নামে সংগঠনগুলো বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে।
পরে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আইম্মাহ পরিষদের আহ্বায়ক, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার সংগঠনের নাম বাংলাদেশ আইম্মা পরিষদ। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াত বা সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’র ব্যানারে আমার সংগঠন নেই। আজ আমি কোনও বিক্ষোভেও যাইনি।’









