সংসদ যেন সব কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সংসদকে বাইপাস করে যেন কিছুই না হয়। সরকারি দল সব কৃতিত্ব নেবে আর বিরোধী দল সবকিছুতে বিরোধিতা করবে—এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে ও দলগতভাবে সমর্থন করি না। সরকারি দলকে যেমন বিরোধী দলকে সম্মান করতে হবে, তেমনি বিরোধী দলেরও দেশ গঠনে যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের এবং পরীক্ষিত বন্ধু।
শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন বেলা ১১টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম।
অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তাকে সমর্থন করছি। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলি এবং সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে ও বাস্তবায়ন করতে চাই। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব, সে ক্ষেত্রে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো।’
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। তবে বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ। রফতানির তুলনায় আমদানি অনেক বেশি। দেশের রফতানি ও জনশক্তি খাতকে আরও বহুমুখী করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী সফরকালে এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়েই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা যেহেতু সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত মৌলিক চুক্তিগুলো সংসদে আনা উচিত। জনগণের প্রতিনিধিরা বিষয়গুলো জানলে সরকার ও জনগণের মধ্যে আরও কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠুক। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই সব চুক্তি হওয়া উচিত। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না, আবার নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না।’
প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদই যেন সব কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়। সংসদকে বাইপাস করে যেন কিছুই না হয়। সংসদই আগামী দিনের পথ দেখাক। সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা।’









