জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘টিকা নিয়ে একেক মন্ত্রী একেক ধরনের কথা বলছেন। মন্ত্রীদের কথা এখন আর মানুষ শুনতে চায় না। তাদের বক্তব্যে দেশের মানুষ সরকারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বাস্তবতা হলো, সরকার যা করতে বলছে দেশের মানুষ এখন আর তা করতে আগ্রহবোধ করছে না।’
বুধবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে সদস্য প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে জি এম কাদের এসব কথা বলেন।
জি এম কাদের এমপি বলেন, ‘গণটিকা কর্মসূচি সফল করে সারা বিশ্ব যখন সবকিছু স্বাভাবিক করে ফেলছে, তখন আমাদের দেশে শত শত মানুষ এক ডোজ টিকার জন্য সারারাত লাইনে বসে রাত কাটিয়েছেন। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধরা সীমাহীন ভোগান্তিতে রাত কাটিয়েছেন শুধু এক ডোজ করোনা টিকা পাওয়ার আশায়। গেলো কয়েক দিন তারা বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরেও টিকা পায়নি। বিশ্বে এমন দুঃখজনক ঘটনা নজিরবিহীন। জাতির জন্য এরচেয়ে লজ্জাজনক সংবাদ আর হতে পারে না।’
জাতীয় ওলামা পার্টি আয়োজিত সদ্য প্রয়াত নেতাদের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘করোনার চিকিৎসা নিয়ে সরকার অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, অনেক আস্ফালন করেছেন। বলেছেন, ‘আমরা নাকি করোনার চেয়েও শক্তিশালী’। অথচ চিকিৎসা পেতে ছুটতে গিয়ে দেশের মানুষ পথে-ঘাটে-গাড়িতে ও অ্যাম্বুলেন্সে মারা যাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ করোনার চিকিৎসা পায়নি।’
জাপার কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, ‘ইতিহাস থেকে অনেক রাজনৈতিক দল হারিয়ে গেছে। কিন্তু দেশের মানুষের ভালোবাসায় জাতীয় পার্টি এখনও বেঁচে আছে।’
কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি আগামী দিনের রাজনীতিতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শক্তি। দেশের মানুষ একবুক প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক-২ এম এ রাজ্জাক খান এবং স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলম।








