জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা অন্যতম প্রধান হটস্পট ছিল। তাই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে এখানকার জনগণই সবার আগে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির সংশোধন হতে হবে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিবাদী বাহিনীর প্রতিরোধে বৃহত্তর উত্তরাসহ ঢাকা উত্তরের জনতার বীরত্ব ও আত্মত্যাগ স্মরণে স্থানীয় মীর মুগ্ধ মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
অনুষ্ঠানে উত্তরার শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইয়ের আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে প্রতিরোধের প্রধান দুর্গ ছিল উত্তরা। ছত্রিশ জুলাই উত্তরা থেকে গণভবনমুখী ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। একদিকে উত্তরা, অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী থেকে গণভবন অভিমুখে মার্চ শুরু হয়, যার মধ্য দিয়ে হাসিনা পালাতে বাধ্য হন। তাই আমরা উত্তরাকে কখনও ভুলে যাবো না।
তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগে এদিন আমাকে গুম করেছিল ফ্যাসিবাদী শক্তি। বহু মানুষকে সেদিন গুম করেছিল হাসিনার বাহিনী। দুই বছর পর আমাদের একটাই চাওয়া—স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের বিচার। স্বৈরাচারের বিচার না হলে আবারও স্বৈরাচার তৈরি হবে। তাই আমরা বিচার চাই।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, যারা পালিয়ে যায়, তারা আর ফেরত আসে না। সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে পারতো। আবারও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে এই উত্তরা থেকেই প্রতিরোধ শুরু হবে।
জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। বিএনপি এখন একত্রিশ দফা ভুলে গেছে। তারা নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছে। নোট অব ডিসেন্টের প্রতারণা বাদ দিয়ে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির সংশোধন হতে হবে।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবেশী বদলানো যায় না। যে প্রতিবেশী আমার পরিবারের সদস্যদের খুন করে, তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা যায় না।
একইসঙ্গে চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত উত্তরা গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদারসহ শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাইযোদ্ধারা।









