জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, জুলাই সনদের রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা।গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আর জুলাই গণহত্যার বিচারও ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের ছাড় দেওয়ার কোনও চেষ্টা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত (১ নভেম্বর)জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও তরুণদের কর্মসংস্থান’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় যুব সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৬’ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।
আখতার বলেন, আওয়ামী লীগের মিছিল হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দূরের কথা, ঘটনা ঘটার পরও তাদের গ্রেফতার করার মতো সক্ষমতা সরকার দেখাতে পারছে না।
তিনি বলেন, সরকার যদি বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে না চায়, তাহলে তাদের জন্য আফসোস। আমরা চাই, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হোক। কিন্তু সরকার যদি প্রতিটি জায়গায় ব্যর্থ হতে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক যুক্তি তাদের আর থাকে না।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে তিনটি কথা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। সেগুলো হলো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু সংস্কার ও বিচারের প্রশ্নে এখনও কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পর যারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, বিএনপি সরকারের ওপর স্বাভাবিকভাবেই এই দুটি বিষয় সমাধানের দায়িত্ব ছিল।
কিন্তু সংস্কারের প্রশ্নে এই সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সেই গণভোটকে অস্বীকার করার পথ অবলম্বন করেছে। গণভোটের রায় আসার পরও যারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন, তারা আসলে জনগণের রায়কে অস্বীকার করছেন।
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্নভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে এখনও কোনও রায় কার্যকর হতে দেখা যায়নি। বরং উল্টো ঘটনা ঘটছে। ভয়ংকর অপরাধীদের সাজা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে, তাদের কম সাজা দেওয়া হচ্ছে।পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, জুলাই গণহত্যার বিচার ঝুলিয়ে রাখার এক ধরনের চিন্তা সরকারের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম পরিবর্তন করা হয়েছে। সরকার তাদের মতাদর্শের আইনজীবীদের দিয়ে নতুন টিম গঠন করেছে। এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি কোথায়? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যতটুকু বিচার হচ্ছে, বাংলাদেশের নিম্ন আদালতগুলোতে কোথাও বিচারের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
আখতার হোসেন বলেন, দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে দলীয় ক্যাডারদের পরিচালক হিসেবে বসানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে নিজেদের লোকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিত্বের জায়গাগুলোতে নিজেদের লোকদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। সরকার নিজেদের মতো ক্ষমতা সুরক্ষিত রেখে সামনে এগোতে চায়। সেই সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ দেবে না। জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিতে থাকলে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় যুবশক্তি রাজপথের কর্মসূচি বেছে নেবে। সরকারের যেকোনো অপকর্মের বিরুদ্ধে তারা দাঁড়িয়ে যাবে।