বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশে এমন ভয়াবহ দুঃশাসন ও নাজুক পরিস্থিতি আর কখনও আসেনি। ঠিক এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত। বিশ্ব মানবতার বাতিঘর।’ ওবায়দুল কাদেরের হাস্যকর এমন মন্তব্যে গোটাজাতি লজ্জা পেয়েছে।’’ রিজভী বলেন, ‘সারাদেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করে, অশান্তির বীজ বপন করে কি শান্তির দূত হওয়া যায়? সে প্রশ্ন চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে।’
শুক্রবার সকালে বিএনপির নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘‘৭২-৭৫ এ দেশে যখন দুর্ভিক্ষ চলছিল, তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতাও শান্তির জন্য জুলিওকুরি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তখন মানুষ বলতো ‘শেখ সাহেবের মাথায় জুলিওকুরি, আমরা সবাই ভাতে মরি।’ রক্তাক্ত দুঃশাসনের ওপর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ওবায়দুল কাদের ঘোষিত ‘শান্তির দূত’ হিসেবে অভিহিত হয়েছেন। এখন বিনাভোটের আওয়ামী সরকার রোহিঙ্গা ইস্যু’র মধ্যে বিদ্যমান অমানবিক কর্তৃত্ববাদী প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিকে আড়াল করার চেষ্টা চালালেও দেশের জনগণ কিছুই ভুলে যায়নি।’’
২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ লাখ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জুলুম নির্যাতন চলছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম ভেঙে পড়েছে। নারী-শিশু নির্যাতন ও পাশবিকতা থামছে না, নারীরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। কোমল মতি শিশু ও স্কুল-কলেজের মেয়েরাও আতঙ্কিত জীবন-যাপন করছে। তখন শেখ হাসিনাকে বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত বলা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০টি মানবাধিকার সংগঠনের মোর্চা হিউম্যান রাইটস ফোরাম বলেছে, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৮২৩ জন। একই সময়ে গুমের শিকার হন ৩৪ জন। সীমান্ত সহিংসতায় মারা গেছেন ১৪৭ জন।’
এছাড়া, গত বছর ১১৭ জন সাংবাদিক শারীরিক, মানসিকভাবে লাঞ্ছনা, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। তবে বিএনপি’র তথ্য মতে, এই গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আরও বেশী।








