সরকার, ইসি চাইলেও সব সময় সুষ্ঠু ভোট হয় না: জিএম কাদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৫৭, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৭, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯

ডিএসসিসি মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানসংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, ‘সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন চাইলেও সব সময় অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নাও হতে পারে। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটাই বাস্তবতা। এমন সমস্যা প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হয়।’ বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জানতে পেরেছি, এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। আমাদের প্রার্থীদের সম্ভাবনা বেশি দেখছি। প্রার্থী ভালো হোক মন্দ হোক, তাদের পক্ষে কাজ করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জিএম কাদের বলেন, ‘কাউন্সিলর পদে আমরা দলীয় মনোনয়ন দিতে পারবো না। তবে তাদের সেভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। কাল-পরশুর মধ্যে প্রার্থিতা ঘোষণা করবো। যাদের প্রার্থী দেবো না তারা যদি ভোট করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, ‘আমি ভিন্নভাবে বলি, যে কারণে কেউ খুশি হন, কেউ বেজার হন। আমার কথা হচ্ছে, যদি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে পারেন, নিজের সম্মান রক্ষা করতে পারেন তাহলে মনোনয়ন নেন। কেন্দ্র পাহারা দিতে না পারলে মনোনয়ন কেনার দরকার নেই।’
ভোট চুরি হলে দাঁড়িয়ে থেকে চুরি ঠেকানোর আহ্বান জানিয়ে রাঙ্গা বলেন, ‘তাহলে চেয়ারম্যান কী করবে, আমি মহাসচিব কী করবো। যদি সাহস থাকে তাহলে ভোটে আসেন। না হলে মাঠে নামার দরকার নেই। আমরা আলাপ-আলোচনা করে প্রার্থী ঠিক করবো। তারা যদি আলাপ-আলোচনা না করে তাহলে আমরা আমাদের মতো ভোট করবো। আমরা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করবো।’
তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকারের ভাবমূর্তি উদ্ধার হবে। নির্বাচন কমিশনের ইমেজ বাড়বে, অতীতের গ্লানি মুছে যাবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আরেকটি বিষয় হবে, এতে আপনারা বুঝতে পারবেন কোথায় আপনার কোন প্রার্থী দুর্বল রয়েছে। সেভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’
প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, ‘একটি কথা বলবো, গত নির্বাচনের আগে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলাম। ওরা প্রস্তাব দিলো, পাঁচটি কাউন্সিলর দেবে। আমি সেই প্রস্তাব নিয়ে পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে তৎকালীন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বাধা দেন। বাবলু ভাই তখন বলেছিলেন, আমরা এককভাবে ভোট করলে ১০-১৫টি ওয়ার্ডে জিতে যাবো। আমি নির্বাচনে যাইনি। আমাদের একজনও পাস করতে পারলো না।’
তিনি বলেন, ‘এখন প্রশ্ন উঠছে সুষ্ঠু নির্বাচনের। এজন্য মাঠে থাকতে হবে। জনগণ সঙ্গে থাকলে শেষ পর্যন্ত কোনও ষড়যন্ত্র বাধা হতে পারে না। এবার দক্ষিণে সাবেক ভিপি আলমগীর সিকদার লোটনকে যদি মেয়র পদে মনোনয়ন দেন, তাহলে ভালো কিছু আশা করা যায়। গতবার মিলনকে দিয়েছিলাম, বারবার তাকে দিয়ে পরীক্ষা করার কোনও মানে হয় না।’
প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল প্রমুখ। উল্লেখ্য, ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমা দেওয়া যাবে।

/এসটিএস/ওআর/এমএমজে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ