সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে আসছে আ.লীগের গুচ্ছ কর্মসূচি

Send
মাহবুব হাসান
প্রকাশিত : ২৩:২৬, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৭, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০





কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও সিটি নির্বাচনের পর এবার দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে তৎপরতা বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কর্মসূচি।

গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগসহ এর ছয়টি সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জানুয়ারিতে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলের নেতা-কর্মীরা ছিলেন ভীষণ ব্যস্ত। পহেলা ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের ভোটে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর আবারও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে দলটি।


দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে নির্বাচনের পর ৪ ফেব্রুয়ারি যেসব সহযোগী সংগঠন এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি সেগুলোর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি দিতে নির্দেশ দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে এখন কাজ চলছে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-সংগঠনগুলোর।
পাশাপাশি জেলাগুলোর অসমাপ্ত সম্মেলন শেষ করা, সাংগঠনিক সফর, সদস্য সংগ্রহ অভিযান, প্রতি জেলার কমপক্ষে দু’জন প্রবীণ নেতাকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংবর্ধনা দেওয়া, জেলা-উপজেলায় বর্ধিত, প্রতিনিধি ও কর্মিসভা সম্পন্ন করার কাজ চলছে। ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায় থেকে উপজেলা-জেলা-মহানগরের কমিটি হালনাগাদ করারও কাজ হাতে নিয়েছে দলটি।
আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান জানান, আগামী এক মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে সদস্য সংগ্রহ অভিযান। এ অভিযানে যেমন সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হবে, পাশাপাশি ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সম্মেলনও শুরু হবে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা-মহানগর পর্যন্ত সম্মেলন শেষ করে দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করা হবে।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে দলের বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকদের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন তারা।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের প্রতিনিধি সভা শেষ করেছেন। ড. হাছান গত শুক্র ও শনিবার রাজশাহী এবং পাবনায় বর্ধিত সভা করেছেন। সূত্র জানায়, আরও তিনটি বিভাগের প্রতিনিধি সভার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৮ ফেব্রুয়ারি, খুলনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি এবং সিলেটে ২২ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে বরিশাল বিভোগের কর্মী সভা করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
এদিকে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া জেলা-উপজেলাগুলোতে ইতোমধ্যে সম্মেলন শুরু হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সম্মেলন করে এ কর্মসূচি শুরু করেছেন।
সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রতি জেলা থেকে দু’জন করে প্রবীণ নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত রয়েছে তা মার্চের মধ্যেই শেষ করা হবে। ছয় মাসের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ ও সংবর্ধনা পাওয়া ব্যক্তিদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনকল্যাণ। আর তার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করা। আর নির্বাচনে জিততে দরকার শক্তিশালী সংগঠন, নিবেদিত নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় যেতে বিশ্বাসী। সেজন্যেই সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং ঐক্যবদ্ধ রাখতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

 

/টিটি/টিএন/

লাইভ

টপ