দেশ ও জাতির কল্যাণ চাইলে সরকারকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচনের গণদাবি মেনে নিতে হবে, বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক। শুক্রবার খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার প্রথম সাধারণ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা ইসহাক বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন প্রয়োজন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সরকার না চাইলে বা সহযোগিতা না করলে ইসির পক্ষে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে রাজনৈতিক দলগুলার মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার উদ্যোগ নিতে হবে। সুষ্ঠু ও ভীতিহীন রাজনৈতিক ও নির্বাচনি পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।’
মুসলমানদের পবিত্র স্থান মসজিদুল আকসায় ইসরাইলি আগ্রাসন বিশ্ব মুসলিম কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না জানিয়ে মাওলানা ইসহাক বলেন, ‘আগ্রাসনের কবল থেকে মসজিদুল আকসা ও ফিলিস্তিন মুক্ত করতে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইসরাইলের কবল থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব।’
রাজধানীর শাহজাহানপুরের মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটে মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর- মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, অধ্যাপক এম কে জামান, মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ প্রমুখ।
অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাব ও চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গ, বন্যা, পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গসহ গো-রক্ষার নামে ভারতে নির্মমভাবে মুসলিম হত্যা-নির্যাতন প্রসঙ্গে ৭টি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
অধিবেশনে খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য, রিয়াদ, জেদ্দা ও কুয়েত শাখার প্রতিনিধিসহ সারাদেশের ৬৫টি জেলা-মহানগরীর ডেলিগেটরা উপস্থিত ছিলেন। এতে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামী ১৬- ৩১ অক্টোবর দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি ছাড়াও ৫টি বিভাগীয় শহরে ওলামা সম্মেলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
/এসটিএস/এমও/








