বিজেপির পাশে বিএনপি!

সালমান তারেক শাকিল
০৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:১১আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৩৯

বিজেপির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত।
বাংলাদেশ জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত। শনিবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে বিজেপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, বিএনপি আপনাদের পাশে থাকবে।’ তবে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, এ ধরনের কোনও আলোচনার কথাই তাদের জানা নেই। বিজেপি নামে একটি দল হয়েছে জানলেও সংগঠনটির সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। যদিও রমেশ দত্ত জানান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অনুমতি নিয়েই তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়েছিলেন।  

শনিবার বিকালে ডিআরইউ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিজেপি। ‘প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জোরপূ্র্বক একমাসের ছুটিতে যেতে বাধ্য করা’র প্রতিবাদে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সংগঠনটি। গত ২২ সেপ্টেম্বর বিজেপির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘বিজেপির প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আশীর্বাদ আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে  আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মিঠুন চৌধুরীর লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। এ সরকারের আমলে তারা চরম লাঞ্ছিত, প্রবঞ্চিত ও নির্যাতিত। তবু আশার স্থল ছিলেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু তাকে জোরপূর্বক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ছুটিতে পাঠাবে সরকার, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। আমরা সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই।’

মিঠুন চৌধুরীর লিখিত বক্তব্যের পর বিএনপি নেতা রমেশ দত্ত বলেন, ‘আমরা বিজেপির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি। আপনারা যে বিষয় নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন, এটিকে আমরা সমর্থন করছি’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে শুধু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানই নয়, সবাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি খেলা হয়ে গেলো, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দেোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কয়েক মিনিটের বক্তব্যের শেষদিকে রমেশ দত্ত বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, বিএনপি আপনাদের পাশে থাকবে। আপনারা এগিয়ে যান, আপনারা কথা বলুন। সমস্ত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খালেদা জিয়া আপনাদের পাশে আছেন।’

বিজেপিকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রমেশ দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে আন অফিসিয়ালি কথা হয়েছে। অফিসিয়ালি না। ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেই এসেছি। আমরা চাই, হিন্দুরা একটু কথা বলুক।’

ভাই কে? তারেক রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে রমেশ দত্ত জানান, ‘আমি রিজভী ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা বলতে চাই, হিন্দুরাও কথা বলুক। আমরা সংহতি প্রকাশ করেছি। এ কারণে, এটা শুধু বিএনপি দাবি করছে না। এটি জনগণের দাবি। এজন্যই  এখানে কথা বলেছি। আমি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’

রমেশ দত্তের দাবির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রমেশ দত্তকে সেখানে কে পাঠিয়েছে, তা আমি জানি না। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’ 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রমেশ দত্ত বলেন, ‘রিজভী ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কিন্তু আমি এসেছি নিজে থেকেই।’

প্রসঙ্গত, আগামী জাতীয় নির্বাচনে রমেশ দত্ত রাজশাহী-৬ আসন থেকে বিএনপির মনোয়নপ্রত্যাশী। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রিজভী ভাই যখন গুলিবিদ্ধ হন, তখন তার পাশেই ছিলাম।’

তবে রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে রমেশ দত্ত কথা বলার দাবি করলেও আদতে বিজেপিকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপিতে কোনও আলোচনাই হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিজেপি নামে একটি দল হয়েছে জানি, কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনও ইন্টারেকশন হয়নি। রমেশের কথা রমেশ বলেছেন। এ বিষয়ে, আমি কিছুই জানি না।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রমেশের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও কথা হয়নি। সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা, জানি না।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রমেশ দত্তের সঙ্গে পরিচয় নেই। আর বিজেপি নামে যে একটি দল হয়েছে, তাও জানি না। সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি তো অনেক দূরের বিষয়।’

এদিকে বিজেপির সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উপদেষ্টা কাজী আজিজুল হক, সাবেক ছাত্রদল নেতা শরিফুল ইসলাম শাওনসহ বিভিন্ন ধর্মের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ও সমমনা অর্ধশতাধিক সংগঠনের উদ্যোগে বিজেপি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ছাড়াও এই দলে আছে মুক্তির আহ্বান, বাংলাদেশ সচেতন সংঘ, জাগো হিন্দু পরিষদ, আনন্দ আশ্রম, হিন্দু লীগ, সনাতন আর্য সংঘ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন, বাংলাদেশ ঋষি সম্প্রদায়, বাংলাদেশ মাইনরিটি ফ্রন্ট, হিউম্যান রাইটস, হিন্দু ঐক্য জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন। দলের সভাপতি ও মুখপাত্র হয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী, মহাসচিব হয়েছেন দেবাশীষ সাহা। দলের মহানগর সম্পাদক দেবদুলাল সাহা, দলের যুব পার্টির সভাপতি আশিক ঘোষ।

 

/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম