X
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪
৩ আষাঢ় ১৪৩১

যুগপৎ আন্দোলনে গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফা ঘোষণা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৫৫আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:৫৯

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ দণ্ডপ্রাপ্ত সব বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীর সাজা বাতিল এবং যুগপৎ আন্দোলন করতে ১৪ দফা ঘোষণা করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। 

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবনের হল রুমে ‘বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন’ প্রসঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ১৪ দফা পেশ করা হয়।

সম্মেলনে ১৪ দফা পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চ সমন্নয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

যুগপৎ আন্দোলনে গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফা ঘোষণা

দাবিগুলো হলো-

১। জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ও সরকারকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

২। অবাধ, নিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে।

৩। ক) সাংবিধানিক ‘স্বৈরতন্ত্রের’ উৎস প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রীক জবাবদিহিহীন ‘স্বেচ্ছাচারী’ কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ব্যবস্থার বদল ঘটিয়ে সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও যৌক্তিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ন্যায়পাল ও সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠনের আইন প্রনয়ণ করতে হবে।

খ) সংবিধানের ৭০তম অনুচ্ছেদের সংস্কার করে সরকার গঠনে আস্থাভোট ও বাজেট পাস ব্যতিরেকে সব বিলে স্বাধীন মতামত দেওয়া এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

গ) প্রত্যক্ষ নির্বাচনের পাশাপাশি সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি ও দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।

ঘ) প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার যৌক্তিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাসহ বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ কার্যকরী স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ঙ) রাষ্ট্রের হিসাব ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন সংস্কার করতে হবে।

৪। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত সব বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাজা বাতিল, সব হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সব রাজনৈতিক কারাবন্দীদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

৫। সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিংয়ে কোনও বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করতে নতুন কোনও মামলা করা যাবে না, গায়েবি মামলায় বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না।

৬। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-সহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী কালাকানুন বাতিল করতে হবে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। ইতোপূর্বে সংগঠিত সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুনের যথাযথ তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশি ব্যবস্থার নামে শ্রমিক আন্দোলনের নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৭। ক) জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্যপণ্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

খ) গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানিসহ সেবামূলক খাতগুলোতে স্বেচ্ছাচারী পন্থায় মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ডুবে থাকা রেন্টাল-কুইক রেন্টাল প্রকল্প ও এই খাতে দেওয়া দায়মুক্তি আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

গ) সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত, সুলভে গণপরিহনের ব্যবস্থা এবং বাসা ভাড়ার যৌক্তিক সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

৮। বিগত বছরগুলোতে, বিশেষ করে গত ১৫ বছর ধরে বিদেশে অর্থপাচার, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, শেয়ার মার্কেট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে সংগঠিত নজিরবিহীন দুর্নীতি এবং এর দায়দায়িত্ব চিহ্নিত করতে শক্তিশালী কমিশন গঠন করতে হবে। দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৯। গত ১৫ বছরে গুমের শিকার সব নাগরিককে উদ্ধার করতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতন নিপীড়নের প্রতিটি ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

১০। সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টি করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপসানালয় ভাংচুর এবং তাদের সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

১১। ক) স্বাস্থ্যকে সম্পদ হিসাবে বিবেচনা ও বিনা চিকিৎসায় কোনও মৃত্যু নয়– এই নীতির ভিত্তিতে সমগ্র স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজাতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতে মুনাফার লাগাম টেনে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

খ) ‘শিক্ষা অধিকার, বাণিজ্যিক পণ্য নয়’ এই নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে সবার জন্য একই মানের শিক্ষা নিশ্চিত, মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ন্যূনতম ৬ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।

১২। রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বেকারদের আত্মকর্মসংস্থানের বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

১৩। কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, পাটকল চিনিকলসহ বন্ধ কলকারখানা চালু, শ্রমিক ও শ্রমজীবীদের বাঁচার মতো মর্যাদাপূর্ণ মজুরি ঘোষণা এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

১৪। জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতি এবং স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।

যুগপৎ আন্দোলনে গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফা ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলন শেষে মান্না জানান, আগামী মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় তারা বিএনপি পার্টি অফিস পরিদর্শনে যাবেন।

বিএনপি সমাবেমের ডাক দিয়ে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। সেখানে বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আপনারা এর সঙ্গে একত্বতা ঘোষণা করবেন নাকি আলাদা কর্মসূচি দেবেন– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ডাকা যুগপৎ আন্দোলন প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে আগেই আলোচনা শুরু করেছি। আলোচনায় আমরা আমাদের ১৪ দফা তাদের কাছে দিয়েছি। বিএনপি এর আগে তাদের ১০ দফা আমাদের দিয়েছে। উভয়ের যে অবস্থান, সেখান থেকে একটি ন্যূনতম ঐক্যের জায়গা আমরা তৈরি করতে আগ্রহী। এছাড়া, বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াঁজো কমিটি হবে। এই কমিটি যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক করবে।’

 

 

/জেডএ/আরকে/
সম্পর্কিত
কাকে সন্তুষ্ট করতে সরকারের নীরবতা, প্রশ্ন মান্নার
হরিজনদের উচ্ছেদ বন্ধের দাবি গণসংহতির
বেনজীর-আজিজদের দিয়েই আ.লীগ ৩ বার ক্ষমতা দখল করেছে: গণতন্ত্র মঞ্চ
সর্বশেষ খবর
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি: ডিএনসিসির উদ্যোগে সাড়া দেয়নি এলাকাবাসী
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি: ডিএনসিসির উদ্যোগে সাড়া দেয়নি এলাকাবাসী
ঈদে বাড়ি যাওয়ার পথে খুন হলেন কাশিমপুর কারাগারের কর্মকর্তা
ঈদে বাড়ি যাওয়ার পথে খুন হলেন কাশিমপুর কারাগারের কর্মকর্তা
২৪ বছরের আক্ষেপ নিয়ে ইউরো মিশনে ফ্রান্স
২৪ বছরের আক্ষেপ নিয়ে ইউরো মিশনে ফ্রান্স
ফিলিস্তিনসহ দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ফিলিস্তিনসহ দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সর্বাধিক পঠিত
পারমাণবিক কর্মসূচি বৃদ্ধি নিয়ে জি-৭ এর বিবৃতির জবাবে যা বললো ইরান
পারমাণবিক কর্মসূচি বৃদ্ধি নিয়ে জি-৭ এর বিবৃতির জবাবে যা বললো ইরান
গাজায় কৌশলগত বিরতি ঘোষণা ইসরায়েলের
গাজায় কৌশলগত বিরতি ঘোষণা ইসরায়েলের
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: শান্তি সম্মেলন শেষে চূড়ান্ত ঘোষণায় যা বললো সুইজারল্যান্ড
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: শান্তি সম্মেলন শেষে চূড়ান্ত ঘোষণায় যা বললো সুইজারল্যান্ড
ছাগলেই স্বস্তি!
ছাগলেই স্বস্তি!
নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ
নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে বাংলাদেশ