বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘যেভাবে বেঁচে আছি সেটাকে বেঁচে থাকা বলে না। কেউ কথা বলতে পারে না, ফেসবুকে কমেন্ট করতে পারে না, সাংবাদিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে, সাংবাদিকদের কোনও স্বাধীনতা নেই; সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলা হয় বলে ক্ষমতাসীনরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে নির্যাতন করছে।’
শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এই সরকারের লোকেরা সিন্ডিকেট করে বিদেশে টাকা পাচার করে প্রাসাদ বানাচ্ছে। তারা সবকিছুতেই সিন্ডিকেট করছে। আজকে বিদেশি গবেষণা সংস্থা বলছে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। দেশে আইনের শাসন নেই, সুশাসন নেই, মানবাধিকার নেই।’
দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই গায়ের জোরের সরকারকে হটানোর কোনও বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেজন্য সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। কোনোমতেই এই সরকারের অধীনে আমরা বিএনপি ও সমমনা যারা আছে সবাই একবাক্যে বলেছে নির্বাচনে যাবো না।’
বিএনপির আন্দোলনে ইভিএম বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে ভোট হলে কী হবে তা সবারই জানা। তারা আবারও ইভিএমে ভোট দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের আন্দোলন ও জনগণের দাবির মুখে নির্বাচন কমিশন ইভিএম বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকার যদি সোজা পথে না আসে তাহলে অতীতে যেভাবে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে স্বৈরাচার হটিয়েছিল, তেমনই ঘটবে। আমি মনে করি সময় বেশি নেই, দেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে বরাবরের মতো জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা ভূমিকা রাখবে।’
সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ।









