আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতারা বলেছেন, দেশের বিচার বিভাগকে বিতর্কিত ও অপদস্থ করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রধান বিচারপতির বাসায় হামলা করেছে বিএনপি। দেশকে অকার্যকর করতে, পাকিস্তান বানাতে যারা সংবিধানের ওপর আঘাত করছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে কোনও আপস বা সংলাপ হবে না। বিএনপি নামক অপশক্তিকে নির্মূল করতে হবে। বিদেশিরা বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, অসাংবিধানিক সরকার নিয়ে আসতে চায়।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৪ দলের বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক ‘পুলিশ হত্যা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে অগ্নিসংযোগ, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার’ প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করেছে ২০১৩-১৪ সালে, এবার আবার শুরু করেছে। ইসরায়েল যেমন গাজার ওপর হামলা করছে, বিএনপিও তাই শুরু করেছে। বিচার বিভাগকে অপদস্থ করার জন্য প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। দেশকে অকার্যকর করতে, পাকিস্তান বানাতে যারা সংবিধানের ওপর আঘাত করছে, তাদের আর ছাড় নয়।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এর বাইরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। দেশের জনগণের জানমাল রক্ষায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। অবরোধে আর যাতে কোনও নৈরাজ্য করতে না পারে, তাদের প্রতিহত করতে রাস্তায় থাকতে হবে নেতাকর্মীদের। এখন থেকে শুরু করে নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে ১৪ দল।’
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বিএনপির নব্য উপদেষ্টা পিটার হাস পুলিশ হত্যার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রদূত থাকার যোগ্যতা হারিয়েছে পিটার হাস।’
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বিএনপি আবারও লেজ গুটিয়ে পালাবে। বিদেশিদের লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন নয়। পৃথিবীজুড়ে আমেরিকা তাণ্ডব চালাচ্ছে। বিএনপি জামায়াতকে দিয়ে বাংলাদেশে তাণ্ডব চালাতে চায় আমেরিকা।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘আবার বাসে আগুন দিলে, নৈরাজ্য করলে বাংলাদেশ থেকে বিএনপিকে বিতাড়িত করা হবে।’ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে ৫ বছর থাকবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি এতদিন বিদেশি প্রভুর ওপর ভর করে তাদের সাহসে আন্দোলন করছে। তারা জনগণকে বিশ্বাস করে না। এবার জনগণ বিএনপির আন্দোলন আন্দোলন খেলা শেষ করে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভরসা বিদেশি প্রভু। তাদের ওপর ভর করা আপনাদের আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে। আহ্বান জানাবো, এখনও সময় আছে আন্দোলন-আন্দোলন খেলা বন্ধ করে নির্বাচনে আসুন। আপনাদের আন্দোলনের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক নেই। আমরা আগেও বলেছি, যে আন্দোলনে মানুষের সম্পর্ক নেই, সেই আন্দোলন সফল হতে পারে না। আজ তা প্রমাণ হয়েছে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন— জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস।









