গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। এই দেশে আর কেউ ফ্যাসিজম কায়েম করতে পারবে না।’
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিকাল ৫টায় রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বরের ডি-ব্লক ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। এ দিন রাত সাড়ে ১১টায় পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরের নেতা জুলফিকার আহমেদ শাকিলসহ মিরপুরের শহীদদের স্মরণে এ সভা আয়োজন করে ‘আমাদের পাঠশালা’।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও আমাদের পাঠশালার উপদেষ্টা জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই করেছি। তার আগে থেকে এই ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে কায়েম আছে। যে-ই সরকারে যায় আমাদের জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়।’
তিনি বলেন, ‘এই ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জুলফিকার শাকিল এসে যোগ দিয়েছিল, দায়িত্ব নিয়েছিল। গত ৪ আগস্ট শাকিল মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে যুবলীগের সন্ত্রাসীদের শটগানের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করে। শাকিলসহ সব শহীদদের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা জানাই। জুলফিকার শাকিল ছাত্র ফেডারেশনেরকে যে গৌরব ও মহিমা দিয়ে গেছে, যুগ যুগান্তর এই সংগঠন তাকে স্মরণে রাখবে। সে স্বপ্ন দেখেছে, ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার পতন ঘটাবে, বাংলাদেশের নাগরিকের সামাজিক মর্যাদার একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে, দেশে গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করবে। সাঈদ থেকে শাকিলের স্বপ্নের বাংলাদেশে আর কেউ ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা কায়েম করতে পারবে না।’
হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘দিনের পর দিন গুম, খুন, নির্যাতন করে ও হাজার-লক্ষ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার টিকে থাকতে চেয়েছে। সর্বশেষ আমাদের ছাত্রসমাজ, আবু সাঈদের সেই ভয় ভাঙানো বুক টান টান করে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে কোটি ছাত্র আন্দোলনে দাঁড়িয়েছে। তখন তারা রাষ্ট্রের সর্বশক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল। যারা আমাদের সন্তানদের গুলি করেছে, হত্যা করেছে, তাদের কোনও ক্ষমা নেই, তারা বিনাবিচারে পার পেতে পারবে না। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে এই হত্যাকারীদের বয়কট করতে হবে। তরুণরা তাদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের সবার ওপর দায়িত্ব দিয়ে গেছে। এই বাংলাদেশে আর কাউকে ফ্যাসিস্ট হতে দেওয়া যাবে না।’
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেনী থেকে নোয়াখালী, কুমিল্লা কিংবা চট্টগ্রাম বিরাট অংশের মানুষ আজকে পানিবন্দি, বন্যায় আক্রান্ত। যেভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি ঐক্যবদ্ধভাবে সেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়ানো দরকার। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই একত্রিত হয়ে আমাদের সম্পদ-অর্থ এক জায়গায় করি। আসুন আমরা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই। তরুণরা যেভাবে লড়াই করেছে, ঠিক একইভাবে পানিবন্দি মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াই। ’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাব্বির চৌধুরী রনির বাবা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘এখন আমার ছেলের মুখে বাবা ডাক শুনি না। প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে রনি বলতো, বাবা মোটর ছাড়ো, গোসল করে বাইরে যাবো। আমার নাশতা রেডি করো.. এখন আর কেউ সকালে বলে না নাশতা রেডি করার কথা আর মোটর ছাড়ার কথা। আমার একটাই চাওয়া আমার ছেলে যেন শহীদের মর্যাদা পায়।’
হাসানের মা মোছাম্মদ আসমা বলেন, ‘আমি ছয় মাস অসুস্থ ছিলাম। সে সময় আমার ছেলে আমার দেখভাল করেছে। যদি আল্লাহ আমার বদলে আমার ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতো কোনও দুঃখ ছিল না। আমার ছেলে দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছে। আর কিছু চাওয়ার নেই, আপনারা আমার ছেলেকে শহীদের মর্যাদা দেবেন।’
স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- আমার পাঠশালার প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন, আমার পাঠশালার পরিচালক ও গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা, সীমা আক্তার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত শাহরিয়ার হাসান আলভির বাবা আবুল হাসান প্রমুখ।









