তড়িৎ ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য নিয়ে জনমনে হতাশার জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার কারণে সংস্কার ও সুশাসন নিয়ে জনগণ শঙ্কায় আছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে এই সরকারের দ্বিধা ও ধীরগতি জনগণের আশাভঙ্গের কারণ হতে পারে।
রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এবি পার্টি আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একমাস: কেমন গেলো, কেমন যেতে পারতো!’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা জানান তারা।
সভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের শতকরা প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ তরুণ যুবক, তাদের চিন্তাকে ধারণ না করে বাংলাদেশে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না। আমরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলবো— আপনারা মানুষের ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুন।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একমাসে শত শত প্রস্তাব আসছে, আসবে কিন্তু সরকারকে ঠিক করতে হবে, এই সময়ে দেশ ও দেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন কী? সেটা নির্ধারণ না করলে সঠিকভাবে আপনারা আগাতে পারবেন না। কোনও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ না।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই, মানবিক দেশ চাই— যেখানে নাগরিকের অধিকার কখনও বিঘ্নিত হবে না।
সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জোনায়েদ সাকি বলেন, একমাস একটি সরকারের মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
এবি পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঞ্চালনায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কর্নেল অব. মিয়া মোহাম্মদ মশিউজ্জামান, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. আহমদ আব্দুল কাদের, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার ও বিএম নাজমুল হক, এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাত উল্লাহ টুটুল, এবি পার্টি উইমেন ইনচার্য ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক মোহাম্মদ প্রিন্সসহ প্রমুখ।









