পুরান ঢাকার চকবাজারে যুবকের মরদেহের ওপর ঘাতকদের নৃত্য একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। যেখানে অপরাধীরা মনে করে, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যা আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব উইং জাতীয় যুবশক্তি।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব (দফতর) আসাদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে যুবদল নেতাকর্মীরা পিটিয়ে ও ইট-পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার মরদেহের ওপর ঘাতকদের নৃত্য এবং আনন্দোৎসব আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। এমন পাশবিকতা সভ্য সমাজে কল্পনাতীত এবং অগ্রহণযোগ্য। এটি কোনও ব্যক্তি নয়, মানবতা, আইন, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত।
এতে বলা হয়, জনসমক্ষে প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে একজন মানুষকে হত্যা শুধু নৃশংসতা নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—দেশের নাগরিক নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
আমরা মনে করি, এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। যেখানে অপরাধীরা মনে করে, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এমন বার্তা রাষ্ট্র ও সমাজ কোনোভাবেই বহন করতে পারে না। আমরা এই পাশবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসঙ্গে জোরালোভাবে দাবি জানাই, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতক ও তাদের মদতদাতাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এমন অন্যায় করার সাহস না পায়।
অন্যদিকে শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুব আলেমদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন- আওয়ামী লীগের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এ দলটির হাত ধরে রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয়। কারণ ৯১’র গণআন্দোলনে স্বৈরাচার পতনের পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেও তারা সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারেনি। ২৪’র গণঅভ্যুত্থানের পরও বিভিন্ন অপকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাই জনগণ নতুন বন্দোবস্ত হিসেবে নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। যেখানে কোনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনও বৈষম্য থাকবে না।
তারিকুল বলেন, বিএনপি ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার জন্য সংস্কার না চেয়ে শুধু নির্বাচন চাচ্ছে। ৩১ দফার মুলা আর কেউ গ্রহণ করবে না। আমরা সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন চাই। যুব আলেম সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাদ্রাসা মসজিদের বাইরেও রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে হবে।









