মাওলানা মামুনুল হক নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক কিছু দায়িত্বে রদবদল এসেছে। রবিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে দলের একটি সূত্র জানায়, দলের ২০২৫-২৬ সেশনের প্রথম কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা অধিবেশন শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা জেলা ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ওই অধিবেশনে এসব রদবদল আনা হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদকের দায়িত্ব পরিবর্তন করে মাওলানা হাসান জুনাইদকে প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে মাওলানা নূর মুহাম্মদ আজীজকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে— মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, ক্বারী হোসাইন আহমদ, জনাব জাহিদুজ্জামান (সভাপতি, যুব মজলিস)।
অধিবেশনে শুরার সদস্যরা আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং কর্মপন্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও মহানগর শাখা, প্রবাস শাখা এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের ষান্মাসিক প্রতিবেদনও অধিবেশনে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। অধিবেশন পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন।
অধিবেশনে মামুনুল হক বলেন, ‘‘দেশব্যাপী সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, প্রায় ৫০টি জেলায় গণসমাবেশ, ৪০টির বেশি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বায়তুল মাল বিভাগে স্থানীয় পর্যায়ের সক্রিয়তা আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করেছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ২২৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি আসনগুলোতেও খুব শিগগির ঘোষণা আসবে।”
মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, “সমমনা ইসলামি দলগুলোর ঐক্য সুসংহত করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে এই ঐক্য আরও বিস্তৃত হবে, ইনশাআল্লাহ।”
অধিবেশনে ১৩ টি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য— সীমান্ত হত্যা বন্ধে সমতাভিত্তিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার; ভোটের অনুপাতে (এমএমপি) আসন বণ্টন পদ্ধতি চালু, “জুলাই ঘোষণাপত্র” দ্রুত প্রকাশ ও চলমান সংস্কারে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিফলন; জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন বাতিল।
সভায় বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।









