গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর মুমূর্ষূ অবস্থায় রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাত ১১টার দিকে নুরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের উদ্দেশে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের লাঠিচার্জে আহত হন নুর।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের অন্যতম নেতা আবু হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের সভাপতি নুরুল হকের অবস্থা বেশি ভালো না। তিনি মুমূর্ষূ অবস্থায় বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক কাকরাইল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বর্তমানে চিকিৎসকদের অবজারভেশনে আছেন।’
আবু হানিফ বলেন, ‘তার খিঁচুনি হচ্ছে। তার নাকে-মুখে আঘাত করা হয়। আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ আরও শতাধিক আহত হয়েছেন।’
কেন পুলিশ ও সেনা সদস্যরা আঘাত করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আবু হানিফ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। পরে যখন মশাল মিছিল করি, তখন আমাদের ওপর হামলা করে। এরপর আমরা যখন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করি, তখন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা হামলা করেন, নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করেন।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবু হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা হামলা করেছে, ফুটেজ আছে, তাদের চিহ্নিত করে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ ঘটনায় কোনও মামলা করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নে হানিফ জানান, ‘দলে আলাপ আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
কোনও কর্মসূচি দেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নে আবু হানিফ বলেন, ‘আমরা আলাপ আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। তখন গণমাধ্যমে জানানো হবে।’
হামলার বিষয় নিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।
গণঅধিকার পরিষদ জানায়, জাতীয় পার্টিসহ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের রাজনীতি নিষিদ্ধ, নিবন্ধন বাতিল ও ফ্যাসিবাদী সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে দলটি। এতে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) পুরানা পল্টনের আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির পর মশাল মিছিল করে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিজয়নগর পানি ট্যাংকি এলাকা থেকে ধাওয়া শুরু করে। সেসময় নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় অফিস আল রাজী কমপ্লেক্সের দিকে চলে যায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
এর আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মশাল মিছিল নিয়ে জাপা অফিসের দিকে যায় জিওপি নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা। প্রথম দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ দলটির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।
এর আগে বিকালে বিক্ষোভ মিছিল করে জিওপি নেতাকর্মীরা। তারা পুরানা পল্টনের আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে গ্রেফতার ও দলটিকে নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।
এ ঘটনার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, যে দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ সভা করেছে, এ ধরনের সমাবেশ করা বেআইনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভের পর নুরুল হক ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে গ্রেফতারের দাবি করেন। হুমকি দেন এ দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করার।
বাংলা ট্রিবিউনকে জাপা ও গণঅধিকারের একাধিক নেতাকর্মী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের পাশের সড়কে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে গেলে জাপার অনুসারীরা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা সেখানে উভয়পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, গণঅধিকারের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধাওয়া দিলে তারা ব্যবস্থা নিতে পিটুনি দেন।









