ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের নাগরিক ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানিতে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। কমিশন জানায়, মামলা নিষ্পত্তি থাকায় তার আপিল মঞ্জুর করা হলো।
এদিকে শুনানি শেষে মাহমুদুর রহমান মান্নার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা খুবই খেলো কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তারা দুটি গ্রাউন্ডে বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না তার মামলার বিষয়ে তথ্য গোপন করেছে। আসলে বিষয় হলো, তার নামে দুটি মামলা ছিল। সেটি ফাইনাল রিপোর্ট হয়েছে। সুতরাং তিনি অভিযুক্ত কখনোই হননি। আরেকটা হলো, এফিডেভিডে (হলফনামায়) একটা সিগনেচার দুটা পাতায় দুইটা ডেটের একটা গড়মিল হয়েছে। এটা আরপিও ১৯৭২ এর আর্টিকেল ১৪ সাব আর্টিকেল ৩ডি তে আছে যে, এ ধরনের ছোটখাটো মামুলি ভুল নির্বাচন কমিশনে গ্রহণ করে নিতে হয়। সুতরাং এখন থেকে মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া দুই আসনের একজন বৈধ প্রার্থী। বগুড়া দুই মানে শিবগঞ্জ আসন।
গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় নানা অসংগতি রয়েছে। তিনি হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কোনও তথ্য দেননি। হলফনামায় যে এফিডেভিট দিয়েছেন, তা সম্পাদনের এক দিন পর তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি। এসব অসংগতির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি শেষ হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময় সূচি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।









